মাগুরানিউজ.কমঃ
প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নতুন বিধিমালা প্রস্তুত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেভাবেই বিধিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ তিনটিতে দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে নতুন বিধিমালায় স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হওয়ার শর্ত সহজ করছে সংস্থাটি।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের জন্য বুধবার বৈঠকে বসেছিল কমিশন। এতে স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থিতার জন্য ২৫০ জন ভোটারের সমর্থন দেয়ার শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নথি আকারে উত্থাপিত হলে তাতে অনুমোদন দেয়ার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এরপর এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দিলেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে কমিশন।
সমপ্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থিতা শিথিলের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ৩০০ ভোটারের সমর্থন দেখানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ১০০ ভোটারের সমর্থন দেখাতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থিতার জন্য এ শর্ত রাখা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে হয়।
উপজেলায় মহিলা সদস্য পদে নির্দলীয়ভাবেই ভোট হবে। এই ভোট হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে। বিধিমালায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় রাখা হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা।
আচরণ বিধিমালা সংশোধনের ক্ষেত্রে অন্য নির্বাচনগুলোর মতো এ নির্বাচনেও মন্ত্রী বা সম পদমর্যাদার ব্যক্তি, মেয়রসহ সরকারি সুবিধাভোগীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হচ্ছে।
২০১৫ সালের নভেম্বরে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণের আইন করে সরকার। এরপর বিধিমালা সংশোধন করে একই বছর ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো দেশে দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করে ইসি। গত জুনে শেষ হওয়া নবম ইউপি নির্বাচনও দলীয়ভাবেই সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। আগামী ডিসেম্বরে নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচন দলীয়ভাবেই সম্পন্ন করবে ইসি।


