মাগুরানিউজ.কম:
ক্ষুদিরাম বসু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে হাসতে হাসতে গলায় ফাঁসির দড়ি পড়েছেন কিশোর বয়সে। বীরের মতো আলিঙ্গন করেছেন মৃত্যুকে। ইতিহাসের পাতায় অনেকটা জায়গা জুড়ে আছেন তিনি।
ক্ষুদিরামের জন্ম ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর। কিশোর ক্ষুদিরাম বসুর বিপ্লবী হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সত্যেন্দ্রনাথ বসুর। তাঁর কাছ থেকেই পবিত্র গীতা পড়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করতে অনুপ্রাণিত হন।
১৯০৮ সালের ১৩ জুন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী তাঁর ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। রায় শুনে ক্ষুদিরামকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি, বরং তিনি হেসে রায় গ্রহণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর রায় কার্যকরের তারিখ ধার্য করা হয় একই বছরের ১১ আগস্ট। কারাফটকের বাইরে তখন লাখো জনতার মুখে উচ্চরিত হতে লাগল ‘বন্দেমাতারম’ স্লোগান।
ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে তাঁর কাছে শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বীরদর্পে বলেছিলেন, ‘আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।’
এই হলো দেশের জন্য ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগ। নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়ি গলায় নেন।
ক্ষুদিরাম বসুকে হত্যা করা হলেও তিনি যে বিপ্লবী চেতনার তেজদীপ্ত মশাল জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, তাতে ব্রিটিশরা একসময় বাধ্য হয়ে ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যায়।
আজ ক্ষুদিরাম বসু নেই। রয়ে গেছে তাঁর কীর্তি, যা তাঁকে কখনোই কালের গর্বে হারিয়ে যেতে দেবে না। বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল। অন্তত পৃথিবী যত দিন থাকবে।


