মাগুরানিউজ.কমঃ
দেশে চাষ করা একটি আমের সর্বোচ্চ ওজন কতো- এমন প্রশ্নের উত্তরে দুই বছর আগে যে তথ্যগুলো মিলতো এখন সে পরিসংখ্যান বদলে গেছে, দেশে এখন চাষ করা একটি আমের সর্বোচ্চ ওজন চার থেকে সোয়া চার কেজি।
নতুন এ পরিসংখ্যান বা তথ্যে অনেকেই অবাক বনে যেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে চার থেকে সোয়া চার কেজি ওজনের আম চাষে সফলতা মিলেছে। সর্ব্বোচ্চ পাঁচ কেজি পর্যন্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ব্রুনাই কিং’ জাতের বিশাল আকৃতির এ আম চাষের সফলতার ইতিহাসটা একটু ভিন্ন। কোনো গবেষক বা কৃষি বিজ্ঞানীর মাধ্যমে নয়, একজন সাধারণ মানুষের মাধ্যমে দেশে এ জাতের আম চাষে সফলতা মিলেছে। তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের নার্সারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান। অবশ্য পরে কৃষিবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে জাতটি সম্পসারণসহ আরও অন্যান্য কাজ শুরু হয়েছে।
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামের ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি ব্রুনাইতে সেদেশের সুলতানের বাসায় কাজ করতেন। সেই বাসায় পাঁচ থেকে ছয় কেজি ওজনের আম চাষ হতে দেখেন তিনি। এরপর দেশে এসে আত্মীয়-স্বজনের কাছে গল্প করেন। তার গল্প শুনে আতিয়ার রহমান নামের একজন কয়েকটি ডাল নিয়ে আসতে বলেন। পরবর্তীতে দেশে আসার সময়ে তিনি আত্মীয়ের কথা মতো কয়েকটি ডাল নিয়ে আসেন।
সেই ডাল থেকে কলম তৈরি করা গাছে বিশালাকৃতির ১৫টি আম শোভা পাচ্ছে। যার প্রতিটির ওজন প্রায় ৪ কেজি করে।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন আতিয়ার রহমানের বাগানে ভীড় করছেন বিশালাকৃতির এ আম দেখতে। কেউ কেউ শখের বশে এক একটি আম কিনতে দাম হাকিয়েছেন ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার অনেকে আম গাছের কলমের জন্য ঘুরছেন আতিয়ার রহমানের কাছে।
অতিয়ার রহমান জানান, গত বছর তিনি ওই গাছ থেকে অল্প সংখ্যক কলম তৈরি করেন। প্রতিটি কলম তিনি ৫শ’ টাকা বিক্রয় করেছেন। এবছরও তিনি কিছু কলম তৈরি করেছেন। এবার বাণিজ্যিকভাবে উচ্চ ফলনশীল জাতের এ আমের কলম তৈরি করে বাজারজাত শুরু করবেন।
এদিকে মাগুরা জেলা হর্টিকালচারাল সেন্টারের উদ্যোগেও এ জাতের আমগাছ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এতে সফলতা মিললে দেশব্যাপী এ জাতের আম চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মাগুরা জেলা হর্টিকালচার কৃষিকর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, গত বছর একেকটি আমের ওজন চার কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। এবার পাঁচ কেজির কাছাকাছি যাবে।


