মাগুরানিউজ.কম:
আজ বৃহস্পতিবার প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। মানবতার জয়গানে উচ্চকণ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের এই দিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ‘রণক্লান্ত’ এই ‘মহাবীর’ ৩৯ বছর আগে ‘শান্ত’ হলেও, আজও আকাশে-বাতাসে বাজে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল। আজও প্রাসঙ্গিক বিদ্রোহী নজরুল।
কবি নজরুল দ্রোহে-প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। দারিদ্র্যের
কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও আপস করেননি; বরং দারিদ্র্য তাকে করেছে মহান, দিয়েছে খ্রিস্টের সম্মান। অর্থ-বিত্তকে ‘পায়ের ভৃত্য’ করে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন ‘আধমরা’ শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য। কবিতার বাণীতে তাদের ঘা মেরে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
কবিতার খাতার মতো জীবনজুড়েই ছিল সংগ্রাম। ১৮৯৯ সালে জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন দুখু মিয়া। মসজিদে ইমামতি, রুটির দোকানে কাজ, লেটুর দলে গান গেয়ে জীবনবোধকে পরিণত করেন। ময়মনসিংহে কয়েক বছর পড়াশোনার পর যুদ্ধে যান স্কুল পালানো নজরুল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২১ সালে সৃষ্টি করেন তার অমর দুই সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ ও ‘ভাঙ্গার গান’ কবিতা। পরের বছর প্রকাশ হয় কাব্যগ্রন্থ ‘অগি্নবীণা’। বাংলা সাহিত্যের পথ বদলে দিলেও নজরুল পড়েন রাজরোষে। কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে।
সৃষ্টির মতোই বহুমুখী ছিল কাজী নজরুলের জীবন। তিনি শুধু কবি নন, প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন। এক রাগের সঙ্গে অন্য রাগের মিলন ঘটিয়ে সঙ্গীতে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেন। গায়কও ছিলেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটকও লিখেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন। দুটি পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে কবিতাই তাকে অমর করেছে। দিয়েছে বিদ্রোহীর পরিচয়।
১৯৪২ সালে বিদ্রোহী কবি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান। থেমে যায় তার কলমও। ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সম্মানে সম্মানিত করেন। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুলকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয় একুশে পদক।
১৯৪২ সাল থেকে অসুস্থ হলেও ১৯৭৫ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কবি নজরুল। শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে মাগুরা নিউজ সম্পাদক রাজীব মিত্র জয় বলেন, নজরুল মানেই এক অনন্যজীবনের গাথা। বাঙালির সমন্বিত সংস্কৃতির বিভা-লাবণ্য ছড়িয়ে আছে তাঁর স্মৃতিসমগ্রে। তাঁর কবিতা ও গানে ব্যবহৃত ধর্মীয় বা পৌরাণিক উপাদানকে তিনি শাস্ত্রের সীমিত গণ্ডি ছাপিয়ে মানবিক উচ্চতায় রূপায়িত করেছেন।


