মাগুরানিউজ.কমঃ
রবিবার রাতে মাগুরা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এক গ্রাম ধলহরা চাঁনপুর। সময় রাত ১০টা, কনকনে শীত, চারিদিকে নিস্তব্ধ নিরবতা, মাঝে মাঝে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, একজন মানুষ নি:শব্দে প্রবেশ করছেন একের পর এক কুঠিরে ঘুম থেকে জাগিয়ে পরম মমতায় কুঠিরের মানুষগুলির শরীরে জড়িয়ে দিলেন শীত নিবারনের বস্ত্র।
সিরিজদিয়া বাওড় পাড়ের সহজ সরল এসব খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সংসার আর কাজের বাইরে তেমন কোন চাওয়া পাওয়া নেই।
সারাদিন ভ্যান চালিয়ে আর সংসারের কাজ সেরে নুরু ও তার স্ত্রী শত খাটাখাটুনির পরও যখন শীতের দিনে একটি কম্বল জোটে না তখন নেহায়েতই সৃষ্টিকর্তার হাতে ভাগ্য সপে দিয়েই পরিবার নিয়ে গভীর ঘুম দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এমনি পরিস্থিতিতে মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের একটি ভাঙ্গা কুটিরের বাসিন্দা নুরু মিয়ার বাড়িতে রবিবার দিবাগত রাত ১১টার সময় শীতবস্ত্র নিয়ে হাজির হন মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ: মাহবুবর রহমান ও তার সঙ্গীরা।
প্রথমে যখন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পাটকাঠির বেড়ায় শব্দ করে বাড়ির মানুষদের ডাকা হয়। পুলিশ কিংবা অন্য কোন ভয়ে অনেকেই তখন মুখ খুলছিলেন না। স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে ডেকে উঠানোর পর জেলা প্রশাসকের হাত থেকে একটি কম্বল পেয়ে হাসবেন না কাঁদবেন কিছুই বুঝে উঠত পারছিলেন না তারা। এক সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠেন সালমা বেগম। একে একে প্রায় ৫০জন দরিদ্র মানুষের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কয়েকজন হতদরিদ্র মানুষকে তাদের ঘর তৈরী করে দেয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ সহায়তা দেন কয়েকজন দরিদ্র নারীকে।
এ প্রসঙ্গে মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ: মাহবুবর রহমান বলেন, দেশের একটি মানুষও যেন শীতে কষ্ট না পায় এজন্য সরকারিভাবে এ কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা শহরের পাশের বস্তিগুলোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের গরীব মানুষদেরও কম্বল দেয়ার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। আর রাতের বেলা বের হতে পারলে তো সত্যিকারের প্রাপ্য যারা তাদেরকে খুজে পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশী।
অপ্রত্যাশিতভাবে একটি কম্বল হাতে পেয়ে ওই গ্রামের রাজ্জাক মোল্যা জানান আমাদের এলাকায় কোনদিনই এ ধরণের কম্বল বিতরণ করা হয়নি। আর বাড়ির উপর স্বয়ং ডিসি সাহেব এসে কম্বল দিয়ে যাবেন। এটা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি।


