মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার পুৃলিশ সুপার জনাব একেএম এহসানউল্লাহ দৃঢ় কন্ঠে ‘মাগুরানিউজ’কে জানিয়েছেন, মাগুরাতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি যথাযথ রাখতে জেলা পুৃলিশের এক নীতি, তা হলো জিরো টলারেন্স। সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ সব অপরাধীর ক্ষেত্রে এ নীতি কঠোর ভাবে পালন করার জন্য জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা অবহিত রয়েছেন এবং সেভাবেই কাজ করে চলেছেন।
মাগুরাকে মাদকমুক্ত রাখতে তিনি সচেতন নাগরিকদের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, মাগুরাকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতারও প্রয়োজন। অপরাধ প্রবণতা ও মাদক ব্যবসা শূণ্যের কোঠায় নেমে না আশা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
জেলা পুলিশ অফিস সুত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার জনাব এ কে এম এহসান উল্লাহ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তারিকুল ইসলামদ্বয়ের তদারকীতে জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব ইমাউল হকের নেতৃত্বে আজ বিকালে মাগুরায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, অভিযানে শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনাকালে তার বসত ঘরের সিলিংয়ের উপর থেকে ২০(বিশ) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
৭/৮টি মাদক মামলার আসামি জাহিদুল কারাগারে রয়েছেন। তবে অভিযানে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
এসময় তিনি আরো জানান, মাগুরাকে মাদকমুক্ত করার জন্য তাদের অভিযান চলবেই। ছোট-বড় যাই হোক, একজন মাদকব্যবসায়ীও রক্ষা পাবেনা। গত ১ মাসেই সদর থানাধীন দোয়ার পাড়, নিজনান্দুয়ালী, ভায়না, পারনান্দুয়ালী, পারলা সহ বিভিন্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে ৫০ জেরও অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক দ্রব্যসহ গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় এক প্রশ্নের জবাবে ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি পুলিশ সুপার মহোদয় নিজে মাঠে থেকে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সময়ে মাগুরা শহরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই যুবক নিহতসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটে যাওয়া অধিকাংশ ঘটনা ছিল মাদক ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে।
সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই শহরের দোয়ার পাড়ে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মমিন ভূইয়া নামে একজন নিহত হন। এ সময় নাজমা বেগম নামে এক অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূ ও তার গর্ভের শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। যা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক তোড়পাড় সৃষ্টি হয়।


