মাগুরায় জমি রেজিস্ট্রি করতে ঘুষ দিতে বাধ্য হলেন ডিআইজি

মাগুরানিউজ.কম: 

mn

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রেশন করতে এসে অফিস সহকারীকে ঘুষ দিতে বাধ্য হলেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আলতাফুল হক মোল্যা।
সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। তিনি এখন অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিষয়টি তিনি সংবাদকর্মীদের তাৎক্ষনিক জানিয়েছেন।

পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আলতাফুল হক মোল্যা জানান, তিনি উপজেলা শহরে তার বাড়ির সামনে প্রস্তাবিত (এফকে ফিলিং স্টেশন) তেলের পাম্প নির্মাণের জন্য রুপালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় ঋণের আবেদন করেন।

ঋণের শর্তানুযায়ী ৫০ শতাংশ জমি ব্যাংকের কাছে বন্দক রাখতে হবে। এজন্য তিনি সোমবার দুপুরে মহম্মদপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বন্দকী দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য আসেন। আলতাফুল হক মোল্যা, তার মেয়ে ব্যারিস্টার নিশাত আফজা ও রুপালী ব্যাংকের মধ্যে বন্দকী দলিল রেজ্রিস্ট্রেশন হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন রুপালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. গোলাম মোস্তফা। নিবন্ধনের জন্য সরকার কর্তৃক ধার্য ১১ হাজার টাকা ফি পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের শাখায় পরিশোধ করেন তিনি।

অফিসে দলিল সম্পাদনের সময় রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা আমিনা বেগমের দফতরে হাজির হওয়ার আগে অফিস সহকারী  (হেড ক্লার্ক) মোতালেব হোসেন জমাদ্দার ছয় হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে দলিল অফিসারের টেবিলে যাবে না বলে পুলিশ কর্মকর্তাকে সাফ জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুষের ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ব্যাংক কর্মকর্তা টাকার রশিদ চাইলে মোতালেব হোসেন জমাদ্দার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের একাধিক বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জানান, উপজেলা সদরের বাসিন্দা মোতালেব হোসেন জমাদ্দার রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহকারী পদে চাকরি করছেন। মাঝে মধ্যে বদলি হলেও আবার তিনি এই অফিসে ফিরে আসেন। তাকে ঘুষ না দিয়ে কেউই জমি রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন না বলে তারা জানান। সাধারণ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও তিনি অস্বাভাবিক বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি উপজেলা শহরের রাজবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকায় সুরম্য দ্বিতল ভবনসহ ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন। এই বাড়ির নামকরণ করেছেন ‘মোতালেব ভিলা’।

এ বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদকসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী মহম্মদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসার আমিনা বেগমের কার্যালয়ে কথা বলেন। তিনি ঘুষের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে অফিস সহকারী মোতালেব জমাদ্দার কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবার সামনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে অফিস খরচ হিসেবে ছয় হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় আমিনা বেগম তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

রুপালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ‘ছয় হাজার টাকা ঘুষ তিনি (অফিস সহকারী) অনেকটা জোর করেই আদায় করেছেন। তিনি রশিদ চাইলে অফিস সহকারী মোতালেব হোসেন তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন মোল্যা নিজে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ঘটনার প্রতিকার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রমাণ হয় সাধারণ মানুষ এই অফিসে আরও বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 

মহম্মদপুর থেকে প্রতিনিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: