মাগুরানিউজ.কমঃ
সিনেমাকেও হার মানানো এ গল্পের নায়ক আশরাফুল ইসলাম মিলন একজন (৪৫) কোরআনে হাফেজ। নাম পরিচয় বদলে নিজেকে মিলন চক্রবর্তী পরিচয় দিয়ে চার বছর আগে বিয়ে করেছেন এক হিন্দু নারীকে। বিয়ের পর থেকে সদর উপজেলার চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুর বাড়ীতেই অবস্থান নিয়েছিল। গলায় পৈতা ঝুলিয়ে পুরদস্তর পুরোহিত সেজে মিলন ঠাকুর নামে দীর্ঘদিন সময় ধরে এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে পূজা-অর্চণাও করে আসছিল। এমনকি ডজনের উপরে হিন্দু বিয়েও পড়িয়েছেন সে। সেনাবাহিনীতে চাকরী দোয়া ও নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপনসহ এমন নানা অভিযোগে মাগুরা ডিবি পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চেঙ্গারডাঙ্গী গ্রাম থেকে তাকে আটক করেছে।
আটক মিলনের কাছ থেকে মোবাইলের একাধিক সিম ও সেট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সে তার ইসলাম ও সনাতন ধর্মের দুধরনের পরিচয়ের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
ডিবি পুলিশের এস আই সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, আটক মিলন চেঙ্গারডাঙ্গী গ্রামের চয়ন বিশ্বাস নামের এক যুবককে সেনাবাহিনীতে চাকরী দেবার কথা বলে ৬লক্ষ টাকা নেয়। পরে চাকরী না পেয়ে চয়ন বিশ্বাস ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মিলনকে শশুর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশী তদন্তে তার বিষয়ে সন্দেহজনক অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এস আই সালাহউদ্দিন আরো জানান, মিলন চেঙ্গারডাঙ্গী এলাকায় ৪ বছর আগে নিজেকে মিলন চক্রবর্তী হিসাবে জানিয়ে মিতা বিশ্বাস নামে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করে। তারপর থেকে সে শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করছিল। নিজেকে ঠাকুর পরিবারের সন্তান পরিচয় দিয়ে সে দির্ঘদিন এলাকায় পূজা ও বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করে আসছে। এ ছাড়া চাকুরী দেয়াসহ নানা প্রতারণা করে আসছে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে তার পূর্বের নাম আশিকুর রহমান মিলন। পিতা মৃত লুৎফর রহমান, গ্রাম কাঞ্চন নগর উপজেলা ডুমুরীয়া জেলা খুলনা। সে হাফেজী মাদরাসা থেকে ১৮ পারা কোরআনের হাফেজ। কিন্তু সে এই পরিচয় গোপন করে সনাতন ধর্মীয় লোক পরিচয়ে মাগুরায় চেঙ্গারডাঙ্গীর মিতা বিশ্বাসকে বিয়ে করেছে।
খুলনায় গ্রামের বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এই বিষয়টি গোপন করে সে মাগুরায় অন্য ধর্মীয় পরিচয়ে নানা প্রতারণা করে আসছে। সে বড় কোন অপরাধী চক্রের সদস্য কিনা, কোন অপরাধ করে আত্মগোপনে রয়েছে বা কোন অপরাধ সংগঠনের জন্য এখানে অবস্থান তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


