যে ভাষণে জন্ম হয়েছিল একটি রাষ্ট্রের

মাগুরানিউজ.কমঃ

রাজীব মিত্র জয় – 

”একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।”

যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর ইতিহাসে যে সকল মহানায়ক নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে গেছেন তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম।

স্বাধীনতা কিংবা একটি জাতির জন্ম প্রতিটি অর্জনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অজস্র আত্মত্যাগ। অধিকার বঞ্চিত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রতিটি জাতির রয়েছে এক একজন স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও জাতির পিতা। জাতিকে দিক নির্দেশনা দিতে তারা নানা কৌশলের পাশাপাশি যে বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের সেই ভাষণগুলো সংরক্ষন করেছেন বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।

জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো তাদের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি মোট ৭৮টি দলিলকে ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করেছে।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্যের ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে এ বছর ৭ই মার্চ উদযাপনে এসেছে ভিন্নতা। এই স্বীকৃতিতে বাংলাদেশের মানুষের গৌরব ও সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একটি ভাষণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, হয়ে উঠতে পারে আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষণ বা বক্তৃতার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন কারণে এসব ভাষণের কোনো কোনোটি আবার ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এমনই একটি ভাষণ।

আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন ”এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, “ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো”।

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।

মেমোরি অব দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সব মহাদেশ থেকে ৪২৭টি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস বা কালেকশন।

এর আগে ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি বিগত আড়াই হাজার বছরে মধ্যে সবচেয়ে জোরালো এবং যুদ্ধকালীন অনুপ্রেরণাদায়ী ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে একটি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ড বইটির প্রণেতা। এতে উইনস্টন চার্চিল, আব্রাহাম লিঙ্কন এবং মাও সেতুংসহ অনেক বিশ্ব নেতার ঐতিহাসিক ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এবছর উজ্জীবিত জাতি ভিন্নমাত্রায় দিবসটি উদযাপন করছে।

rajibmitrajoy@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

December ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Nov    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

December ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Nov    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: