মাগুরানিউজ.কমঃ
১৯৭১ সালে মাত্র ৮ বছর বয়স ছিলো মোস্তাফিজুর রহমানের। মুক্তিযুদ্ধ কী তা বোঝার মতো বুদ্ধিও তখন হয়ে ওঠেনি। অথচ তিনি এখন রীতিমতো ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে তিনি ৩ হাজার করে ১২ মাসের এককালীন ৩৬ হাজার ও জুলাই, আগষ্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৫ হাজার করে ১৫ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেছেন। মোট উত্তোলনকৃত ভাতার টাকার পরিমাণ ৫১ হাজার। মোস্তাফিজুর রহমান মাগুরার মহম্মদপুরের পাল্লা গ্রামের শহীদ হাবিবুর রহমান মহম্মদের ছেলে। তার পিতা ৭১’এর ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুরে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার পাল্লা গ্রামের শহীদ হাবিবুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের জন্ম ১৯৬৩ সালের পহেলা মে। ওই হিসেবে ৭১’ সালে তার বয়স ছিলো মাত্র ৮ বছর। ১৯৭৮ সালে তিনি পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এসএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ০১-০৫-১৯৬৩। জাতীয় পরিচয় পত্রেও তার জন্ম তারিখ অভীন্ন। ১৯৮৯ সালে তিনি বেসরকারি রেজিস্ট্রাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নেন। ২০০৯ সালে মোস্তাফিজুর রহমান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার ভাটরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা তৈরি না হওয়া ৮ বছর বয়সের কিশোর মোস্তাফিজুর রহামনের মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রাপ্তি ও সর্বশেষ সরকারি ভাতা গ্রহণের বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সত্যতা মিলেছে। উপজেলায় এ ধরণের আরো অনেক কিশোরের গল্প রয়েছে বলেও চাউর আছে।
১৯৯৮ সালে যাচাই-বছাই করে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যা পরবর্তীতে ‘মুক্তিবার্তা’ নামে প্রকাশিত হয়। ওই সময়ের যাচাই-বাছাই কমিটি মোস্তাফিজুর রহমানরে নাম তালিকাভূক্ত করে বলে অনুসন্ধানে জানাগেছে।
সুত্র জানায়, তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সারাদেশে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দিয়ে ‘মুক্তিবার্তা’ প্রকাশ করে।
বর্তমান মহম্মদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী রেজা খোকন বলেন, ১৯৯৮ সালে কমিটিতে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম অর্ন্তভূক্ত করেন তৎকালীন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন খোকন। তৎসময়ে মোস্তাফিজুর রহমান দীঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৯৯৮ সালে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা একটা তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করি। তবে দু:খজনক হলেও সত্যি এটাই যে, অজ্ঞাত কারণে আমাদের তালিকায় নতুন নাম অর্ন্তভূক্ত করে মুক্তিবার্তা প্রকাশ করা হয়। এ কারণে আমি ওই সময়ই দু:খ প্রকাশ করে বিবৃতি দেই।
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমি যোদ্ধাদের সহযোগি হিসেবে কাজ করেছি। নুরুজ্জামান মুসল্লী ও তোজাম্মেল হক নামের দুই বীরমুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে তিনি ফায়ারিং শিখেছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।


