মাগুরানিউজ.কমঃ
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট বড় ব্যবধানে জিতে নিয়ে ২০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে লিড নিয়েছিল পাকিস্তান। সোমবার দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৫৬ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল। পাশাপাশি ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে তারা। এর আগে ১৯৯৪ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল পাকরা।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটিকে রেকর্ড গড়ার প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকান মিসবাহ-উল-হক। সেঞ্চুরি করেন আজহার আলীও। তবে সবাইকে পেছনে ফেলে বুড়ো হাড়ে জ্বলে ওঠেন ইউনুস খান। তিনি তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি।
অনবদ্য এই ইনিংস খেলার মাধ্যমে অনেকগুলো রেকর্ড ও কীর্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি। মিসবাহ ও আজহার আলীর সেঞ্চুরি ও ইউনিস খানের ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ৬ উইকেটে ৫৭০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২৬১ করে ফলোওয়ানে পড়লেও তাদের ব্যাট করায়নি পাকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো গতির ইনিংস খেলেন মিসবাহ। তুলে নেন ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরি। আর যা তাকে টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় প্রথম স্থান দেয়। এরপর ৫৬ বলে সেঞ্চুরি করে ২৮ বছরের রেকর্ড ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের পাশে অবস্থান নেন পাক অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আজহার আলী ও মিসবাহ সেঞ্চুরি করে ৩ উইকেটে ২৯৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা দেয়।
ফলে পাহাড়সম ৬০২ রানের নিচে চাপা পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এতোগুলো রানের চাপ সহ্য করতে পারেনি অসিরা। চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৪৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে অসিরা। পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে একটু প্রতিরোধ গড়লেও মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর ২০ মিনিটের মধ্যে হুমমুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপ। অলআউট হয়ে যায় ২৪৬ রানে। ফলে পাকিস্তান জয় পায় ৩৫৬ রানের বড় ব্যবধানে। যা পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে জুলফিকার বাবর ৭টি ও ইয়াসির শাহ ৫টি উইকেট নেন।
সবচেয়ে বেশি বয়সে দুই ইনিংসেই অনবদ্য সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন মিসবাহ-উল-হক। আর দুই টেস্টেই অসাধারণ ইনিংস খেলে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন ইউনিস খান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :


