মাগুরানিউজ.কমঃ
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হরতালের দিন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে অবরোধের দিন পরীক্ষা হবে।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়ে জরুরি সভা শেষে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানসহ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে। ২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা আগামী শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সব রাজনৈতিক দলকে পরীক্ষার সময় কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
অবরোধে পরীক্ষার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অবরোধ তেমন পালন হয় না। তাই অবরোধের দিন পরীক্ষা হবে। হরতালের দিন হবে না। কারণ তাদের (২০ দলীয় জোট) অবরোধ কার্যকর হয় না বলেই এর মধ্যে হরতাল দিয়েছে।’
বড় বড় কথা বলা সম্ভব হলেও দায়িত্ব অবহেলা সম্ভব নয় জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই এমন অবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসতে গেলে সমস্যা হতে পারে। বড় বড় কথা বলা সম্ভব হলেও দায়িত্ব অবহেলা করতে পারি না। এ হিসেবে বুধবার থেকে প্রথম পরীক্ষা শুরু হবে এবং সোমবারের পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো পরীক্ষার্থীদের পুড়িয়ে, জ্বালিয়ে মারার এবং সহিংসতার মধ্যে ঠেলে দিতে পারি না। তাদের নিরাপদ জীবন আমাদের কাছে বড়। সে কথা মনে রেখে হরতালের দিন আমরা পরীক্ষা পরিবর্তন করে দিব।’
হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য সব ধরনের মিনতি করার পরেও ২০ দলীয় জোটের কোনো দয়া হয়নি উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘নমনীয়ভাবে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকরা আবেদন করেছিল। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের পাশে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন করেছে। তাতেও কোনো দয়া হয়নি। এভাবে সারা দেশে মানববন্ধন হয়েছে। আশায় ছিলাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দয়াবান হয়ে তারা এসব কর্মসূচি থেকে সরে আসবে। এক পর্যায়ে আমরা আবেদন জানিয়েছি, অন্তত পরীক্ষার দিন হরতাল-অবরোধ না দেওয়ার জন্য। আশা করছিলাম বেলা ১২ টা (রোববার) পর্যন্ত একটা উত্তর পাব। কিন্তু তারা ইতিবাচক কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টা বলল, পরীক্ষা দিয়ে কী হবে।’
উল্লেখ্য, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ জন ছাত্রী। মোট ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। বিদেশে আটটি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এবার আটটি বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৯১ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ ১০ হাজার ২৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে।


