মাগুরানিউজ.কমঃ
পৌনে আটটার দিকে অপেক্ষার অবসান। খবর এল, রানওয়ে ছুঁয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বহনকারী এমেরিটসের ইকে ৫৮৪ ফ্লাইট। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাংবাদিকদের মধ্যে তৈরি হলো চাঞ্চল্য। জ্বলে উঠল একের পর এক ক্যামেরার আলো। ‘শাবাশ বাংলাদেশ, শাবাশ টাইগার্স’ স্লোগানে মুখর ভিআইপি লাউঞ্জ। মানুষের ভিড় ফুঁড়ে বেরিয়ে এলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা , সঙ্গে টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।
দুজনের চোখেমুখে ভ্রমণ-ক্লান্তির ছাপ। তবুও বসতে হলো সাংবাদিকদের সামনে। বলতে হলো গত দুই মাসের স্বপ্ন-যাত্রা নিয়ে। এমন অভর্থনা পেয়ে অভীভূত বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘সত্যি অন্যরকম লাগছে। মানুষের এ ভালোবাসা খুব অনুভব করি। মানুষের ভালাবাসায় আজ বাংলাদেশের ক্রিকেট অন্য পর্যায়ে গিয়েছে। আমরা যা করেছি মানুষের জন্যই করেছি।’
বিশ্বকাপ-মিশনের আগে জানিয়ে গিয়েছিলেন, দলীয় লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। সেটি পূরণ হয়েছে। কিন্তু তার আগে দলকে যেতে হয়েছে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে।
চারটি প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে করতে হয়েছিল শুরু। তবুও মূল মঞ্চে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। সাফল্যের কারণ হিসেবে বললেন, ‘বিশ্বকাপের আগে অনুশীলনে কোচ যেভাবে বলেছে, খেলোয়াড়েরা সেটি ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আসলে আমাদের বিশ্বাস ছিল কিছু করতে পারব। খেলোয়াড়েরা সে অনুযায়ী নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে। মনে করি, তা করতেও পেরেছে।’
বিশ্বকাপের সময় খবর পেয়েছিলেন পাঁচ মাসের ছেলেটা মারাত্মক অসুস্থ। একবার ভেবেছিলেন দেশেও ফিরে আসবেন। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলেছেন কীভাবে? মাশরাফি বললেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ড আমাকে এ ব্যাপারে ভীষণ সহায়তা করেছে।’ তবে অধিনায়ক জানালেন কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরই সবাই সেমিফাইনালের আশা করেছিল। দুর্ভাগ্য সেটি হয়নি।
তবে যতটুকু হয়েছে তাতেই খুশি দেশের দর্শক-সমর্থকেরা। নইলে এক পলক বীরদের দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন কেন বিমান বন্দর চত্বরে? অবশ্য নিরাপত্তার জন্য খেলোয়াড়-সাংবাদিক-জনতার মধ্যে একচোট কানামাছি খেলাই হয়ে গেল। অধিনায়ক মাশরাফিকে পেলেও অন্য খেলোয়াড়দের নাগালে খুব একটা পাওয়া গেলো না। তামিম ইকবাল তো সবার আগে ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেলেন। কেউ একজন জানালেন, তামিমের চট্টগ্রাম যাওয়ার তাড়া আছে। একটু ভিড় কমলে পাওয়া গেল নাসির হোসেন, মাহমুদউল্লাহকে। যথারীতি ফুরফুর মেজাজে, নাসির শিষ বাজাচ্ছেন, গান গাচ্ছেন! মাহমুদউল্লাহকে অভিনন্দন জানাতেই স্মিথ হাসলেন।
খেলোয়াড়েরা যে যার মতো চলে গেলেও তখনো জনতার স্লোগান ভেসে আসছে-শাবাশ বাংলাদেশ। গো টাইগার্স গো। টাইগারদের আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম! অবশ্য খেলোয়াড়দের দেখতে পাওয়া গেল কিনা, সমস্যা নেই। বীরদের এভাবে বরণ করেও যে সুখ। জীবনের সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতার হাত ধরাধরি করে এ দেশের মানুষ বিজয়ের নায়কদের বরণ করতে এমন উদ্বাহু হবে-সেটাই তো স্বাভাবিক।


