মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় সবজিখেতে পাতা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এদের মধ্যে বাদুড় ও চামচিকার সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি জেলার বেগুন, কপি, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির খেতগুলোতে এসব পাখির আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফসল রক্ষায় এই কারেন্ট জাল পেতে রাখছেন চাষিরা।
সরেজমিন বিভিন্ন সবজিখেতে গিয়ে দেখা গেছে, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি রক্ষা করতে খেত কারেন্ট জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এতে আটকা পড়ে মৃত অবস্থায় ঝুলে রয়েছে বাদুড় ও চামচিকা। এ ছাড়া শালিক, ফিঙে, দোয়েলসহ অন্যান্য পাখিও মৃত অবস্থায় ঝুলতে দেখা গেছে।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে। এতে বেগুন, কপি, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ রয়েছে। কৃষকেরা পাখির হাত থেকে এসব সবজি রক্ষার জন্য কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। এতে করে মারা যাচ্ছে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারী পাখি, বাদুড় ও চামচিকা।
মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাদুড় ও চামচিকা স্তন্যপায়ী প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, বাদুড় ও চামচিকা পরাগায়ন ঘটাতে সাহায্য করে। এদের মল মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান। যেসব নিশাচর কীটপতঙ্গ ফসল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, চামচিকা রাতে সেগুলোকে খেয়ে থাকে। এভাবে বাদুড় ও চামচিকা নিধন করা হলে বীজের স্বাভাবিক পরাগায়ন ও অঙ্কুরোদ্গম বন্ধ হয়ে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
সূত্র জানায়, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক সবজিপ্রধান গ্রামে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে নানা জাতের সবজির আবাদ হয়। এসব জমির সবজি রক্ষার জন্য কারেন্ট জাল ব্যবহার করা হয়।
জেলা সদরের বেলনগর গ্রামের সবজিচাষি আক্কাস হোসেন জানান, তার বেগুনখেতের চারদিকে ও ওপরে কারেন্ট জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। এতে দুই হাজার টাকা খরচ হলেও পাখির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকার সবজি।
একই এলাকার কৃষক মিরাজুল ইসলাম জানান, তার বাগানে কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা গেছে অন্তত ২০০টি বাদুড়-চামচিকাসহ অন্যান্য পাখি। বাদুড় ও চামচিকা বেগুনের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
তাদের মতো অধিকাংশ কৃষকই এসব পাখির ক্ষতির দিকটি জানলেও এদের উপকারের বিষয়ে কিছু জানেন না।


