মাগুরানিউজ.কমঃ
গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের অন্তত ২৪টি গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ি, দুই শতাধিক হেক্টর আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য বনজ ও ফলের বাগান। প্রতিনিয়ত ভাঙ্গছে নদীর পাড়।
গড়াই নদীর তীরবর্তী শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের আমলসার, রাকসাকান্দি, বদনপুর, বিলনাথুর, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি, গঙ্গারামখালি ও কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরাননগর-মাটিকাটা গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমলসার ইউনিয়নের বদনপুর গ্রামের ভাঙন ওয়াপদা-লাঙলবাঁধ পাকা সড়ক পর্যন্ত চলে এসেছে। আমলসার গ্রামের আদিবাসি পল্লীর বেশ কিছু বসতবাড়িও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে বসত করছে প্রায় ১০টি পরিবার।
অনেকে বসতবাড়ি সরিয়ে অন্য জায়গায় নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করছে। এছাড়া এ ইউনিয়নের আরো কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিলীন হয়ে গেছে অনেক ফসলী জমি, গাছপালা, বাঁশঝাড়। এর মধ্যে লাঙ্গলবাঁধ, ইন্দুরবাড়িয়া, কচুবাড়িয়া, আধারকোঠা, কোদলা, চরিয়াপাড়া, চর-ইসলামপুর, সুন্দরপুর, টিকারবিলা, আড়য়াডাঙ্গি, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের ঘসিয়াল, কাদিরপাড়া ইউনিয়নের পুশআমলা, কমলাপুর, নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর, মান্দারতলা, রাজধরপুরসহ অন্তত ২৪টি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক হেক্টর আবাদি জমির গাছপালা, ফসল, পার্শ¦বর্তী রাস্তা নদীতে মিশে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমলসার গ্রামের প্রায় একশ’ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে অশোক বিশ্বাসের ৩৫ একর, অরুণ বিশ্বাসের ৩০ একর, অমল বিশ্বাসের ১০ একর, সিরাজুল ইসলামের ৪ একর, অনিল সরারের ৩ একর ও ধীরেন্দ্রনাথের ২ আবাদী একর ছাড়াও চরচৌগাছী গ্রামের মাহাবুল আলম, কামাল মাস্টার, মোবারক হোসেন, মহিদুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, নূরোল হোসেন, বাহার বিশ্বাস, টুকু মোল্যা, দরবেশ ও একিনসহ অনেকের কমবেশি চর আবাদী জমি ও ফলজ-বনজ বাগান নদী গর্বে বিলীন হয়ে গেছে। চরচৌগাছি গ্রামের ইমান উদ্দিন, রশিদ বিশ্বাস, রোস্তম আলী, বুদোই বিশ্বাস, আবদুল মজিদ, আবদুল আজিজ, শহিদুল শেখ, ঘসিয়াল গ্রামের নেকবর, হাশেম, কাশেম আমিন, মোকাদ্দেস, আবসার, ও টেঙর মিয়ার বাড়িসহ অন্তত ৩০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে ভেঙে ফেলেছে।
চরম ঝুকিতে দিন কাটাচ্ছেন আমলসার চরিয়াপাড়া গ্রামের আদিবাসী পাড়ার দুলাল রায়, বিষ্ণুপদ, অনন্ত, কৃষ্ণ, বাবলু, মহাদেব, বাংলা রায়, আনন্দ, মনোজিৎ, লিটন, দড়িয়াপাড়া-আঁধারকোটা গ্রামের বিকাশ, শ্যামল, রমেন অরুণ ও রমেশসহ অন্তত ৫২টি পরিবার।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় আমলসার গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নদীর মাঝখানের চর কেটে দিয়ে এ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই সাথে নদীর এপাড়ে ব্লক অথবা স্পার্ক বাঁধ দিয়ে স্রোতের গতি পরিবর্তন করে এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো জানান, বিষয়টি মাগুরার জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে আছে। ইতিমধ্যেই শ্রীপুর উপজেলার বদনপুুর এলাকার নদী ভাঙন রোধে ৬ কোটি টাকার স্কিম দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।


