মাগুরানিউজ.কমঃ
অনেকেই রোবট সার্জন, স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ ডিভাইস কিংবা পরিধানযোগ্য নানা ডিভাইসে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি হবে বলে আশা করছেন। এসব প্রযুক্তির অনেকগুলোই ২০১৫ সালে চালু হয়ে যাবে। আর এর ফলে উপকৃত হবে সম্পূর্ণ মানবজাতি। এ লেখায় থাকছে সম্ভাবনাময় এমন ৯ প্রযুক্তি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. মোবাইল স্ট্রোক ইউনিট
স্ট্রোকের চিকিৎসা যথেষ্ট জটিল আর এ থেকে রক্ষা পাওয়াও কঠিন। কিন্তু স্ট্রোক হলেই যদি ওষুধের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা করা যায় কিংবা যে জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড সমস্যার জন্য দায়ী, সরাসরি সেটাকেই স্বাভাবিক করা যায় তাহলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এমন প্রযুক্তি আসছে শীঘ্রই।
২. ডেঙ্গুর টিকা
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যায়। মশার মাধ্যমে ছড়ানোর উপযোগী এ রোগটির টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে গবেষকরা আশাবাদী যে, শীঘ্রই এ রোগটির টিকা আবিষ্কৃত হবে। আর তা হলে প্রাণ বাঁচানো যাবে বহু মানুষের।
৩. এক ফোঁটা রক্তেই ‘ব্লাড টেস্ট’
রক্ত পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাভেদে সিরিঞ্জ দিয়ে ফুটিয়ে বেশ কিছুটা রক্ত নেওয়া হয়, এমনটাই প্রচলিত নিয়ম। কিন্তু ভবিষ্যতে আসছে এমন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মাত্র এক ফোঁটা রক্ত নিলেই পরীক্ষার কাজটি সেরে ফেলা যাবে। এতে খরচও কম হবে। আর বাঁচবে ব্যয়বহুল সিরিঞ্জের পেছনে ব্যয়কৃত অর্থ।
৫. ক্যান্সারের অব্যর্থ ওষুধ
এখন কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়। এতে যেমন নানা পাশ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায় তেমন আরোগ্য লাভও কঠিন। আর এ সমস্যা মোকাবেলায় আসছে নতুন প্রজন্মের ওষুধ। এ ওষুধ শুধু ক্যান্সারের কোষগুলোকে ধ্বংস করবে। বাকি দেহের ক্ষতি করবে না।
৬. তারহীন পেসমেকার
হৃৎপিণ্ডের কাজ অনিয়মিত হয়ে গেলে পেসমেকারের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণের চল শুরু হয় ১৯৫৮ সালেই। কিন্তু এ পেসমেকার চলে ব্যাটারি দিয়ে, যার সংযোগে ব্যবহৃত তারের সংযোগ নিয়ে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়। এ সমস্যা মোকাবেলায় আসছে আধুনিক পেসমেকার। এ পেসমেকার অনেকটা বড় ক্যাপসুলের সাইজের। পায়ে ফুটো করে ক্যাথেডারের মাধ্যমে মাত্র ২০ মিনিটে একে সহজেই হৃৎপিণ্ডে স্থাপন করা হবে। ডিভাইসটির ব্যাটারির চার্জ থাকবে প্রায় সাত বছর। পরীক্ষামূলকভাবে এটি রোগীর দেহে স্থাপন শুরু হয়ে গেছে।
৭. ফুসফুসের রোগের জন্য নতুন ওষুধ
ফুসফুসের একটি প্রাণঘাতী রোগের নাম আইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফিব্রোসিস, যার কারণ আজও অজানা। এ রোগের চিকিৎসায় ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বহু মানুষের জীবন রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৮. স্তন ক্যান্সারের নতুন চিকিৎসা
প্রতি বছর বহু নারীর মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারে। আর নতুন প্রযুক্তিতে এ রোগের চিকিৎসা সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে।
৯. হৃৎযন্ত্র রক্ষার ওষুধ
প্রতি বছর বহু মানুষ হৃৎযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। আর এ সমস্যার সমাধানে আসছে নতুন ওষুধ। এটি হৃৎযন্ত্রের ক্রীয়া ঠিক রাখতে দারুণ কার্যকর হবে বলেই জানাচ্ছেন আবিষ্কারকরা।


