মাগুরানিউজ.কমঃ

ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী বাংলাদেশে তার পৈত্রিক ভিটা ঘুরে গেলেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়া আসেন তিনি। এরপর প্রাইভেটকারে বেলা দেড়টায় ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার নিভৃত পল্লী চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের উত্তর চেঁচরী গ্রাম পৈত্রিক নিবাসে পৌছান।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নামে হেলিকপ্টার। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের গ্রাম থেকে ছুটে আসা শত শত মানুষের ভিড় জমে গেলো। হেলিকপ্টার দেখতে আসেননি তারা, এসেছেন নচিকেতাকে দেখতে। দুই বাংলার জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী এদিন শেকড়ের টানে পিরোজপুর ঘুরতে এলেন। এখানে তিনি সময় কাটান গাঙ্গুলী বাড়িতে। এখানেই তার জন্মভিটা, তার মামাবাড়ি।
নচিকেতা গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে পৈত্রিক জমির দিঘীর পাড়ে গিয়ে বসেন। সেখানে কিছু সময় থাকার পর দিঘীর দক্ষিন পার্শ্বে তার পৈত্রিক ভিটায় যান। তাদের ফেলে যাওয়া শুন্য ভিটায় মরিয়ম বেগম নামের এক মহিলা বসবাস করছেন। সেই কুটিরে ১০ মিনিট নীরবে বসে থাকেন এ জনপ্রিয় শিল্পী। এ সময় তার বাড়ির স্মৃতি মনে পড়ায় অশ্রুসম্বরণ করতে পারেননি তিনি।
নচিকেতার মামাবাড়ি ভান্ডারিয়া ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চেঁচরী রামপুর গ্রামে। তার আসার খবর জেনে এদিন সেখানে জনস্রোত নামে। গ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর ঘুরে দেখেন স্থানীয় ভান্ডারিয়া বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। একসময় ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন নচিকেতার দাদু ললিত কুমার গাঙ্গুলী।
বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি গাড়ি যোগে ভান্ডারিয়া শহর থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরের চেঁচরী রামপুর গ্রামে তার জন্মভিটা গাঙ্গুলী মামাবাড়িতে যান। গাঙ্গুলী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দীঘি ও বমনের খালের পাড়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। ওই দীঘি ও খালের জল বোতল ভরে সঙ্গেও নিয়ে যান তিনি।
এ সময় নচিকেতা বলেন, ১৯৪৫-৪৬ সনের দিকে আমার দাদু ললিত মোহন চক্রবর্তী ভারতে চলে যান। এতো বছর সে দেশে বসবাস করছি। বহুদিনের আশা এ ভিটিতে আসা। আজ এ আশা পুরণ হলো। এ ভিটিতে আমার থেকে যেতে ইচ্ছে করছে। এ মাটিতে বসার পর আর উঠতে মন চায় না। আমার বাবা-মা কেউ বেচে নেই। আমি অনাথ।
নচিকেতা জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগেই তার বাবা সবারঞ্জন চক্রবর্তী ও মা লতিকা চক্রবর্তী ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর আর নিজ ভূমিতে ফেরা হয়নি তাদের। তিনি বলেন, ‘দেশভাগের আগেই দেশ ছেড়েছিলো আমার পরিবার। তবু এ দেশ আমারও। এখানেই আমার জন্মভিটা। এ এলাকায় এখনও আমাদের ৫০ বিঘা সম্পত্তিআছে। যদিও সব জমিল বেদখল হয়ে গেছে। এ জমি উদ্ধারের ইচ্ছে আমার নেই। কেবল প্রাণের টানে জন্মভিটায় ঘুরতে এসেছি। সরকার যদি সে জমি উদ্ধার করে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমি খুশি হবো।’
জন্মভিটায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী থেকে ভান্ডারিয়া শহরে ফেরেন নচিকেতা। এরপর থানা প্রশাসনের আপ্যায়নে অংশ নিয়ে আবার তিনি হেলিকপ্টার যোগে বিকেল ৪টার দিকে ঢাকায় ফিরে যান।

