মাগুরানিউজ.কমঃ
খুলনা টেস্টে সেঞ্চুরির পর ম্যাচে ১০ উইকেটে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সেরা অল-রাউন্ডারের আসন ফিরে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে এক ম্যাচে সেঞ্চুরী ও ১০ উইকেট নেয়ার অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়ে ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের পাশে নিজের নামকে স্বর্নাক্ষরে লিখিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
সাকিবের এই কৃতিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সেখানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের চেয়ে সাকিবের অসাধারন পারফরম্যান্সই বেশী গুরুত্ব পেয়েছে।
ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো ম্যাগাজিনের রিপোর্টে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের খবরটি তুলে ধরেছে। সঙ্গে সাকিবের সাফল্যের খবরটিও ফলাও করে প্রচার করেছে। ক্রিকইনফো লিখেছে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের কৃতিত্ব ইয়ান বোথাম, ইমরান খানের পর শুধু সাকিব আল হাসানই অর্জন করেছেন। সঙ্গে যোগ করেছে বিশ্বের অন্যতম দুই সেরা অলরাউন্ডার রিচার্ড হ্যাডলি ও কপিল দেবও পারেননি এই এলিট ক্লাবে নিজেদের নাম লেখাতে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো সাকিবের সাফল্য নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও প্রচার করেছে।
এদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৬ উইকেট তুলে নিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেন সাকিব আল-হাসান।
প্রথম টেস্ট ঢাকায় ব্যাট হাতে তেমন জ্বলে উঠতে না পারলেও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খুলনায় খেলেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৭ রানের অসাধারন এক ইনিংস। বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ প্রায় একাই গুড়িয়ে দিয়েছেন। খুলনা টেস্টে মূলত সাকিবের কাছেই হেরে যায় জিম্বাবুয়ে দল।
এরপর সিরিজের শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে স্বাগতিকদের বড় জয় এনে দিতে সাহায্য করেন সাকিব আল-হাসান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে বোলিংয়ে তুলে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১৮টি উইকেট দেশ সেরা এই ক্রিকেটার। ৩ ম্যচে ১২৯.৫ ওভার বল করে ২৯ মেডেনে ৩২৯ রান দিয়ে ১৮টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। সিরিজ সর্বোচ্চ এই উইকেট শিকারে সাকিবের গড় ছিলো ১৮.২৭।
পাশাপশি ব্যাটিংয়ে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরিতে তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ২৫১টি রান। ৩ ম্যাচে মোট ৬ ইনিংসে ৭০.৭০ স্টাইক রেটে এই রান তুলেছেন সাকিব। গড় ৪১.৮৩।


