মাগুরানিউজ.কমঃ
‘আমার মনিগেরে কিডা দেকপেনে। তাগেরে কিডা খাওয়াবেনে। আমি না থাকলি ওরা না খায়ে মরে যাবেনে। ভাই আমি আর বাঁচপো নানে। আমার মনিগের আপনি একটু দেখেন।’
পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে মৃত্যুর আগে নিজের তিনটি সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত রওশন বিশ্বাস (৩৫) বড় ভাই রকিব বিশ্বাসের হাত ধরে এ সব কথা বলছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মারা যান রওশন।
এ দিকে রওশন আলীর পর মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিলেন শাকিল মোল্যা (২০) নামের আরেক শ্রমিক।
রওশন রোববার ভোরে মারা যান। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাকিল মোল্যা।
শাকিলের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার মালিক গ্রাম এলাকায়। সে ওই গ্রামের ইসমাইল মোল্যার ছেলে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো দুই।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে রওশনের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে এসে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভাই রকিব বিশ্বাস, বোন আলেয়া বেগমসহ অন্যরা।
রকিব বিশ্বাস জানান, ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলায় আহত ৯ শ্রমিকের মধ্যে চারজনই তার পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে মৃত ছোটভাই রওশন ছাড়াও তার নিজের ছেলে আরব আলী (২১), ছোট ভাই ইলিয়াস (৩২) ও অপর ভাইয়ের ছেলে মতিন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছে। তাদের সবার বাড়িই সদরের মালিকগ্রাম গ্রামে। এ ছাড়া আহত অন্য পাঁচজনও একই এলাকার বাসিন্দা।
রওশন বিশ্বাসের বোন আলেয়া বেগম জানান, মাত্র পাঁচ মাসের শিশুসন্তানসহ তিন শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের ভরণ পোষনের জন্য বালু শ্রমিকের কাজ করতো রওশন। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অকুল পাথারে পড়েছে। পরিবারের দেখাশোনা করার মত এখন আর কেউই রইল না। তিনি এ পরিবারটির পরিপূর্ণ ভরণ পোষন ও ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
রওশনের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানালেন সিভিল সাজন।।


