মাগুরানিউজ.কমঃ
জানাজা ও জেয়াফতের ১৯ মাস পর চট্টগ্রামের মাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ‘মৃত’ হেফাজতকর্মী আল ফারুককে। সোহেল নামে এক হেফাজতকর্মী নিহত হয়েছে দাবি করা হলেও তাকে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে চাঁদপুর উজানী মাদ্রাসায়! নিহতের তালিকায় থাকা লোকমানকে পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। আরেক ‘নিহত’ জাহিদুল ইসলাম সৌরভের দাবি ঢাকায় শাপলা চত্বরের সমাবেশেই ছিলেন না তিনি। গত রমজানে বান্দরবানে ফিরে এসেছে হেফাজতের আরও দুই ‘নিখোঁজ’ কর্মী। এভাবে ‘নিখোঁজ’ ও ‘মৃত’ কর্মীরা একের পর এক ফিরে আসায় বিপাকে পড়েছে আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। গোয়েন্দারা বলছেন, নিখোঁজ ও মৃত আরও হেফাজতকর্মীর হদিস মিলবে শিগগিরই।
শাপলা চত্বরের সেই অপারেশনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল সমকালকে বলেন, ‘সেই অপারেশন নিয়ে নানা মিথ্যাচার হয়েছে। কিন্তু সে রাতে পুলিশ কোনো গুলি ছোড়েনি। তথাকথিত নিখোঁজ ও মৃতরা ফিরে আসায় মিথ্যাচারীদের মুখোশ এখন উন্মোচিত হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘শাপলা চত্বরের ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম তা ছিল অনুমাননির্ভর। সেই তালিকার কেউ ছিল জেলখানায়, কেউ ছিল আত্মগোপনে। তাদের কেউ কেউ ফিরে এলেও নিখোঁজ আছেন অনেকেই। আমাদের ধারণা, এ পর্যন্ত ১০-১২ জন নিখোঁজ ও মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত হেফাজতকর্মী ফিরে এসেছেন।’
চট্টগ্রামে হেফাজতের নিখোঁজ কর্মীরা ফিরতে শুরু করেন গত রমজানে। এ সময় বান্দরবানের লামা থেকে শাপলা চত্বরের সমাবেশে গিয়ে নিখোঁজ দুই কর্মী ফিরে আসেন। বিষয়টি হেফাজতের উচ্চ পর্যায়কেও জানানো হয়। তবে তাদের পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেছেন হেফাজতের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, ‘রমজানে আমাদের দুই কর্মী ফিরে আসেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের পরিচয় প্রকাশ করিনি। এরপর ধাপে ধাপে আরও ১০-১২ হেফাজতকর্মী ফিরে এসেছেন।’


