মানুষের সঙ্গে ষাড়ের লড়াই…….

মাগুরানিউজ.কমঃ

mn

মানুষের সঙ্গে ষাড়ের লড়াই চলছে। আর চারদিকে উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছে সেই দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। তবে মানুষের সঙ্গে ষাড়ের লড়াই এখন শুধু ইউরোপের দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই বরং ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়াতেও। এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বেশ ঘটা করে আয়োজন করা হয় মানুষের সঙ্গে ষাড়ের লড়াই। কোথাও কোথাও তা আবার উৎসবেও পরিণত হয়েছে। তবে প্রাচীন মিথে এর আবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রয়েছে।

এমনি ব্যতিক্রমধর্মী উৎসব পালন করে আসছে ভারতের দক্ষিণ প্রদেশের তামিলনাড়ু রাজ্যের গ্রামবাসীরা। নতুন বছরের ধান কাটার উৎসবকে কেন্দ্র করে বছর বছর এই উৎসবের আয়োজন করে গ্রামবাসীরা। নতুন ধান ঘরে তোলার এক মাস পরেই আয়োজন করা হয়ে থাকে এই উৎসবের। স্থানীয়দের কাছে ষাড়ের সঙ্গে মানুষের এই লড়াইকে বলা হয় ‘জাল্লিকাত্তু’। তামিল নববর্ষ অর্থাৎ পোংগাল উৎসবে আয়োজন করা হয়ে থাকে জাল্লিকাত্তু নামে এই খেলাটি। দক্ষিণ ভারতে কয়েক হাজার বছর ধরে এই উৎসব বেশ আড়ম্বরের সঙ্গেই পালিত হয়ে আসছে।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। আয়োজন করা হয় নানান অনুষ্ঠান। আর লড়াইয়ের জন্য ষাড়গুলোকেও প্রস্তুত করা হয় নানাভাবে। গ্রামের তরুণরা সাধারণত বেশ আগ্রহের সঙ্গে এই খেলায় অংশগ্রহন করে থাকে। এই খেলার নিয়মটা কিছুটা এরকম, ছুটন্ত ষাড়টিকে যদি ১৫ থেকে ২০ মিটারের মধ্যে ফেলে দেয়া হয় বা তিন লাফে যদি কোন অংশগ্রহনকারী ষাড়ের পিঠে চড়তে পারে তাহলে তাকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। পুরষ্কার হিসেবে দেয়া হয় নগদ অর্থ। তবে এই খেলায় অংশগ্রহনের জন্য প্রতিযোগীকে বেশ শক্তিসামর্থ্য সম্পন্ন হতে হয়। আর এজন্য খেলা শুরুর পূর্বে তাদের একধরণের পানীয় পান করতে দেয়া হয় যা শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

তবে যত আয়োজনের সঙ্গেই এই প্রতিযোগতা শুরু হোক না কেন শেষটা হয় রক্তক্ষরণের মধ্যে দিয়ে। প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করতে আসা বেশির ভাগ প্রতিযোগীই ষাড়ের শিং এর আঘাতে আহত হয়। কেউ কেউ আবার মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। শুধু তাই নয় টানাটানিতে ষাড়গুলোর অবস্থাও বেশ খারাপ হয়ে যায়, এমনকি কয়েকদিন অসুস্থতায় ভুগে মারাও যায়। আর এসব কথা বিবেচনা করে পশু অধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি রুল জারি করা হয়। সেখানে বলা হয় এই ধরণের আয়োজন কেবল মানুষ নয় পশুগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুতরাং অনতিবিলম্বে এই খেলা নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ তামিলরা মনে করেন ষাড়ের সঙ্গে লড়াই তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরই একটি অংশ। আর এই খেলা বন্ধ হলে তাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ হারিয়ে যাবে। জিনিউজ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: