মাছের জেলা মাগুরার মাছের উৎসগুলো হারিয়ে যাচ্ছে

মাগুরানিউজ.কমঃ

মাগুরা শহরের পাশ দিয়ে বয়েচলা নবগঙ্গার এখনকার চিত্র
মাগুরা শহরের পাশ দিয়ে বয়েচলা নবগঙ্গার এখনকার চিত্র

শুকনো মৌসুম আসার আগেই মাগুরা জেলার ৪ উপজেলার মাছের উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় একদিকে দেখা দিচ্ছে মাছের সংকট অপরদিকে মৎস্যজীবীরা হয়ে পড়ছে বেকার। কোন ভাবেই ২ হাজার ৯৫৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাততি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে মাগুরা জেলায় মাছের বার্ষিক চাহিদা ১৭ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন। সেখানে উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন। এ হিসেবে ঘাটতি থাকছে ২ হাজার ৯৫৮ মেট্রিক টন।

মৎস্য বিভাগের খাতায় মাগুরা জেলার ৪ উপজেলায় জলাশয় দেখানো হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৫,৯৭ হেক্টর। এর মধ্যে বাওড় ৫ টি, ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর দিঘির সংখ্যা ১৫ হাজার ৮১২টি, যার জলায়াতন ২ হাজার ৫৪ হেক্টর, সরকারি খাস মৎস্য খামার ৪৮টি, জলায়তন ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, বেসরকারি মৎস্য খামার ৯৩টি, জলায়তন ২১৮ হেক্টর।  খালের সংখ্যা ৪ টি, বিলের সংখ্যা ৭৭টি, নদী দেখানো হয়েছে ১২টি, বড়পিট ৬টি, ধান ক্ষেতে মৎস্য চাষ ১৭৫টি, বেসরকারি হ্যাচারী ১টি, সরকারি বীজ উৎপাদন খামার ১টি, বেসরকারি নার্সারীর সংখ্যা ৫৮২টি, অভয় আশ্রম ৭টি, মোট মৎস্য চাষীর সংখ্যা ১২ হাজার ৪৪৫ জন, মোট মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯৩৯ জন, মৎস্য সমবায় সমিতির সংখ্যা ৩২টি, পোনা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৪৩০ জন।

ty5ty

মৎস্য বিভাগের দেয়া তথ্যের সাথে বাস্তবে কোন মিল পাওয়া যায়না। কত বছর আগে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে আর তা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা মৎস্য বিভাগই জানে। বাস্তবে মাগুরা জেলায় মধুমতি, গড়াই, নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি, চিত্রা নদী ছাড়া কোন নদী চোখে পড়বেনা। খাল-বিল বাওড় দিঘির যে হিসাব দেখান হয়েছে  বাস্তবে এর চার ভাগের এক ভাগও নেই। প্রতি বছর মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি করা হয়। সরকারের লাখ লাখ টাকা এসব প্রকল্পে খরচ দেখান হয়।আর এজন্যেই কি জলাশয়ের পরিমান বেশী দেখান হয় এ প্রশ্ন এলাকার মানুষের। পুরানো বিল খাল বাওড় দিঘি প্রায় গুলোই বুজে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি জমে যা একদেড় মাসের মধ্যেই শুকিয়ে যায়।

pak20141103185506gdff

ফলে এখানে মাছ বড় হওয়ার আগেই পানি শুকিয়ে যায়। ব্যক্তি মলিকানায় কয়েকটি জলাশয় সেচের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করে মাছের চাষ করে থাকে। ফলে দেশীয় মিঠা পানির মাছ আগের মত আর পাওয়া যায়না। পুটি টেংরা, টাকি শৈল, রয়না, কৈ, মাগুর জিয়েল, খয়রা, বাইম,চান্দা, চাপলে,বাতাশী মাছ মাছের ভরা মৌসুমে ও দেখা যাচ্ছেনা। দিনে দিনে এসব মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

মাগুরার মাছের বাজার অন্যান্য জেলা থেকে আসা মাছ দখল করে নিয়েছে। নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেরা তাদের জাল উঠিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ মাগুরা জেলার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের অর্থে প্রতি বছর পোনা অবমুক্তির অনুষ্ঠান করে থাকে যা অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

মাগুরা জেলা মৎস্য চাষি সমিতির  সাধারণ সম্পাদক অহিদুল হক জানান, কবে মাছ ছাড়া হয় তা তাদের জানানো হয়না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন কর্তাব্যক্তির কোন পরামর্শ তারা কোনদিন পাননা।

pak2014110318khh5506

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর নন্দী জানান, জেলার মাছের ঘাটতি পুরনের জন্য মৎস্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে রাজস্ব খাত থেকে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ১৭২.২৩৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তি করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৭ লাখ টাকার পোনা অবমুক্তির করার কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা অপিস কার্যক্রম চালায় ফলে জেলা অপিসের অনিয়মের সুযোগ নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: