মাগুরা ফিরে গেছে শায়েস্তা খাঁর আমলে!

মাগুরানিউজ.কমঃ 

mula-1417878983

এক টাকা কেজি মুলা! বড় সাইজের প্রতিটি  বাঁধাকপি দেড় টাকা; আর ফুলকপির কেজি চার  টাকা। এক কেজি লম্বা বেগুনও মেলে দেড় টাকায়! বড় আকারের একটি কচকচে লাউ কিনবেন? তাতেও গুণতে হবে মাত্র ছয় টাকা! আর এই শীতে  কান গরম করা ঝালের এক কেজি কাঁচা মরিচ? তা-ও মিলে যায় আট টাকায়!   এটি কোন রূপকথার গল্প নয়। নয়, প্রজাবান্ধব শায়েস্তা খাঁর শাসনামলের শান্তি-কাহিনিও। এটি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সবজির বাজারের চিত্র।

অন্য বছরের তুলনায় মহম্মদপুরে এবার সবজির উৎপাদন বেশি হয়েছে। সে তুলনায় ক্রেতা কম থাকায় দাম কমেছে গেছে বলে জানান কৃষকরা। তবে যারা আগাম ফসল তুলেছেন তারা কিছুটা দাম পেয়েছেন।

মাগুরার অন্যতম পাইকারি মোকাম পারলা বাজার। এই বাজার থেকে শহরের নতুন বাজারের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার। অথচ মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে এই খুচরা বাজারে সবজির দামে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

কৃষক আক্কাস আলী বিশ্বাস দুই মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে এনেছেন পারলা পাইকারি বাজারে। দু-তিনজন ক্রেতা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৮ থেকে ১০ টাকা বলছেন। সদর উপজেলার পুখরিয়া গ্রামের কৃষক আহম্মদ খলিফা এই বাজারে নিয়ে এসেছেন বেগুন। এক কেজি বেগুনের দাম মাত্র পাঁচ টাকা হাঁকছেন ব্যাপারীরা।

কৃষক রবিউল ইসলাম নিয়ে এসেছেন শিম। ক্রেতারা প্রতি কেজি শিমের দাম বলছেন মাত্র ১০-১২ টাকা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ওই দামেই সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন রবিউল। 

কৃষকরা জানান, ১০-১৫ দিন আগেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ, ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে শিম, প্রতি কেজি বেগুন ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে। জেলা-উপজেলা শহরের বাইরে সবজির দাম আরো কম বলে জানা গেছে।

সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। দাম কম হওয়ায় অনেকে ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেন না। আবার অনেকে বাঁধাকপি ও মুলা গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার উপ-পরিচালক মোকলেছুর রহমান জানান, সবজির দাম কমে যাওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে সবজি চাষিরা কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না। অনেক সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।

শ্রীপুরের দ্বারিয়াপুরের কৃষক ইলিয়াস হোসেন জানান, জমি থেকে  সবজি তুলতে একজন শ্রমিককে ২০০ টাকা দিতে হয়। পরিবহণ খরচ দিয়ে বাজারে সবজি নেওয়ার পর খরচ উঠছে না। এক মণ মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা এক কেজি চালের দামের সমান। অনেকেই মুলা বিক্রি করতে না পেরে ছাগল-গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

শুক্রবার শহরের ঢাকারোড পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ১০ টাকা। এর ১ কিলোমিটার দূরে শহরের নতুন বাজারে তা খুচরা বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। শুধু কাঁচা মরিচই নয়, পারলা বাজারের ৫ টাকা কেজির বেগুন নতুন বাজারে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। একইভাবে পারলা বাজারের ১০ টাকা কেজির সিম নতুন বাজারে দাম ৩০ টাকা।

১ কিলোমিটার দূরে সব ধরনের সবজি প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রির যৌক্তিক কোনো কারণ জানাতে পারেননি সবজি ব্যবসায়ীরা। কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে চাষি, আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই বিপরীতমুখী চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকারোড পাইকারী বাজারের সবজির পাইকার মোহাম্মদ আলী জানান, অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে শীতের সবজির দাম পড়ে যায়। উৎপাদন বাড়ে, সে তুলনায় ক্রেতা কম থাকাই দাম কমার প্রধান কারণ।  এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম ছিল অনেক বেশি। পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে সময় লাগে। ব্যাপারীরা মোকাম থেকে সবজি কিনে এনে বেশি লাভে এখানে বিক্রি করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: