মাগুরা থেকে ড্রাগন এখন দেশের ৪০ জেলায়

মাগুরানিউজ.কমঃ

pak20141103185htygfy506

মাগুরা জেলায় বিদেশী ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা অর্থকরি এ ফল চাষে ঝুকে পড়ছে। সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাগুরা হটিকালচার সেন্টার এর এর তত্বাবধানে ইতিমধ্যে জেলার ৪ উপজেলায় ১০টি ফল বাগান করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানে ৮০ টি গাছ, পিলার, কীটনাশক, সার সরবরাহ করা হয়েছে।  তাছাড়া ৩০ টি বাড়িতে ফলের বাগান করে গরীব চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে চারা, সার, পিলার কীটনাশক দেয়া হয়েছে।

আধুনিক পুষ্টিগুন এবং ঔষধীগুন সম্বলিত এ ফলে খেতে খুবই সুস্বাদু তাছাড়া এতে রক্তচাপ, গ্লুকোচ কমাতে সহায়তা করে। প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয়।ফল প্রতিকেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।বছরে একটি গাছ থেকে ১০ কেজি উৎপাদন সহজেই সম্ভব। সে হিসেবে প্রতি গাছ থেকে ২শ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ১০ কেজি ফল উৎপাদন হতে পারে। এ ফলের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২৫ টন। ২০ থেকে ২৫ বছর একটি গাছ ফল দেয়। এর মাধ্যমেই বিজ কাটিং করা যায়। তা ছাড়া এ ফলে তেমন রোগ বালাই দেখা যায়না।

ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, চিন, শ্রীলংকাসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এ ফল চাষে এগিয়ে যাচ্ছে। মাগুরা হটিকালচার সেন্টারের উদ্যান তত্ববিদ আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের মাটি এ ফল চাষের জন্য উপযোগী এবং সম্ভাবনা থাকায়‘ ভিয়েতনাম থেকে ৬ জাতের ড্রাগন চারা এনে কৃষকদের এ ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ড্রাগন ফল গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও এর নিকটবর্তী অঞ্চলের বিদেশী ফল, থাইল্যান্ড এ ফলকে পিতায়া বলে। গাছের আদি নিবাস দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকায়। বর্তমানে এই ফল পৃথিবীতে নতুন ফল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

নাতিশীতোঞ্চ উষ্নমন্ডলীয় অঞ্চলের জলবায়ু এই গাছের জন্য ভালো। সুনিস্কাসিত ও জৈব পদার্থযুক্ত উর্বর যে কোন মাটিতে এই গাছ ভালো জন্মে।বছরের যে কোন সময় চারা রোপন1383553095. করা যায়। তবে মে মাসে গাছে ফুল ফোটা শুরু করে আর জুন মাস থেকে ফল পাকা শুরু করে। পিলারের চারিদিকে দুই ফুটপ্রস্থ ও দুই ফুট গভীরতায় মাদা তৈরী করে ১০- ১৫ কেজি পঁচা গোবর বা কম্পোষ্ট সার ও কিছু ছাই মাটিতে মিশ্রিত করে সাথে ২০০ গ্রাম পটাশ দিয়ে মাদায় প্রয়োগ ও সেচ প্রদান করে ২ সপ্তাহ রেখে প্রতিটি পিলারের সাথে ২/৩ টি চারা রোপন করতে হয়।কাচা ফল সবুজ রংয়ের। ফলের শেষ প্রান্তের পাতাবৃতি লাল রং ধারণ করে ফলের নাভি ফেটে গেলে বুঝতে হবে ফলটি যথাযথ পরিপক্ক হয়েছে।৪ বছরের একটি গাছ থেকে বছরে এদেশে ১২৪টি ফল সংগৃহীত হয়েছে। যার গড় ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ১.২ কেজি।জাত ভেদে পূর্ণাঙ্গ গাছে বছরে ১০০ কেজি পর্যন্ত ফলন হতে পারে।

উপযুক্ত পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় এর গাছ ২০- ২৫ বছর ফলনশীল থাকে। ড্রাগন ফলে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম শক্তি বাড়ায় ও চর্বি কমায়।পর্যাপ্ত ক্যারোটিন থাকায় স্মৃতি শক্তি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। ভিটামিন বি থাকায় ক্ষুদা বাড়ায়,রক্তে গ্লুকোজ কমায়। বি সিটোস্টরেল থাকায় হাইপার টেনশন কমায়। ত্বকের মসৃণতা ও আদ্রতা ধরে রাখে এবং ভিটামিন বি-৩ থাকায় শরীরে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, খারাপ কলেস্টোরোল ও রক্ত চাপ কমায়, রক্তের শিরা প্রশস্থ করে ও মাইগ্রেনের ব্যাথা কমায়। তাছাড়া ড্রাগনের সাদা শাঁসের রস প্রসাধন গুনের আধার। সাধারণ বার্ধক্য বিলম্বিত করে, ত্বকে ভাজ পড়া বন্ধ রাখে, ত্বকের রেখা ও কুচকানো দাগ মুছে লাবন্যতা বৃদ্ধি করে। ফলে মেয়েদের রূপচর্চায় এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম কামরুজ্জামান জানান, কৃষি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহদয়ের সুপারিশে একটি টিম ভিয়েতনাম সফর করে এ ফলের ১২ টি জাত যাচাই করে ৬ টি জাত দেশের জন্য নির্বাচিত করে দেশের ৪০টি জেলায় ১ হাজারটি প্রদর্শনী খামারের মাধ্যমে চাষ করা হচ্ছে। এ ফল চাষ করে চাষিরা লাভবান হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ ফল ভুমিকা রাখবে। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: