মাগুরায় ৪ লাখ শিশুর ৩ লাখই নেই!

মাগুরানিউজ.কমঃ

images
গত ৪৫ বছরে মাগুরার চার উপজেলার তিন শ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ লাখ গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত চার লাখ ছিল শিশুগাছ। এ সব শিশুগাছের ৮০ শতাংশ মরে গেছে। বাকি ২০ শতাংশ ক্রমে মরে যাচ্ছে। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। জেলা বন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া-ধোয়াইল সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, দুই পাশে মেহগনি, কড়াই, গামারি, বাবলাসহ রকমারি হাজারো গাছের সারি। সব গাছ সতেজ ও সুদীর্ঘ। সতেজ এসব গাছের বাইরে শুধু এক প্রজাতির গাছই শুকিয়ে বিবর্ণ। নাম তার শিশু। অথচ একসময় এই গাছগুলো ছিল সড়কের সবচেয়ে দর্শনীয়। যেমন ছিল তার প্রস্থ, তেমনি তার দৈর্ঘ্য। কিন্তু সে দৃশ্য এখন অতীত। ধোয়াইল-বালিদিয়া সড়কের মতো মহম্মদপুরের নহাটা-রাজাপুর, বিনোদপুর-নহাটা, মাগুরা-শত্রুজিতপুর, সদর উপজেলার ভায়না-আরমখালী, শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া-আঠারোখাদা, শালিখা উপজেলার আড়পাড়া-কালীগঞ্জসহ সব সড়কের দুই পাশে থাকা শিশুগাছগুলো মরে গেছে।

শিশুগাছের মরে যাওয়া নিয়ে কথা তুলতেই ধোয়াইলের শিক্ষক ওয়ালিউর রহমানসহ আরো অনেকে জানান, গত ৩০ বছর ধরে তাঁরা রাস্তার পাশে থাকা শিশুগাছগুলোর মরে যাওয়া দেখছেন। একসময় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে (ধোয়াইল-বালিদিয়া) অন্তত দুই হাজার শিশুগাছ ছিল। এখন সর্বসাকুল্যে ১০ শতাংশ সতেজ আছে কি না সন্দেহ। বেশির ভাগ গাছ এক ধরনের আঠালো পদার্থ নিঃসরিত হয়ে মারা গেছে। মৃত অবস্থায় কয়েকটি গাছ শুকনো কাঠসর্বস্ব দেহাবশেষ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার মিত্র জানান, ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মাগুরার ফরেস্ট রেঞ্জার ছিলেন। তখন সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন সড়কে কমপক্ষে এক লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে এর সব মারা গেছে। এর আগে ও পরে আরো কয়েক লাখ গাছ একইভাবে লাগানো হয়েছিল। যেগুলোর অবস্থা একই রকম। ২০০৫ সালের পর থেকে এই গাছ রোপণ বন্ধ রয়েছে। শ্যামল কুমার মিত্র বলেন, ‘ঠিক কী রোগে গাছগুলো মারা যাচ্ছে, তা নির্ণয় করা যায়নি।’

প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কর্মরত সেচ্ছাসেবী সংস্থা পল্লী প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘এটি অজ্ঞাত ছত্রাক কিংবা ফাঙ্গাসের আক্রমণের ফলে হচ্ছে। এর উৎপত্তিস্থল শেকড়। পরে গোটা গাছে ছড়িয়ে পড়ে।’ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘রোগের ধরন দেখে ধারণা করা যায়, এটি ডাইব্যাক জাতীয় ভাইরাস কিংবা অন্য কোনো ফাঙ্গাসের আক্রমণ।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: