মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় আজ বুধবার থেকে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। এ বছর ৫৫টি মণ্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা শেষ হবে ২ নভেম্বর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। তবে পূজা উপলক্ষে মেলা চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
এটা জেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ এক উৎসব। যেহেতু শুধু মাগুরা জেলায় এ পূজা এতটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে হয়, সে কারণে এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। এমনকি ভারত-নেপালসহ বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীরা আসেন পূজার উৎসবে অংশ নিতে। পূজা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সড়কে দৃষ্টিনন্দন তোরণসহ ব্যাপক আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।চোখ জুড়ানো ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা।
শহরের জামরুলতলা, সাতদোহাপাড়া, নতুন বাজার, দরিমাগুরা, বাটিকাডাঙ্গা, পারনান্দুয়ালী, সাজিয়াড়া, শিবরামপুর পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন মণ্ডপগুলোকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্যে ডেকোরেটরের কর্মীদের কাজ চলছে রাত জেগে।
পূজা উপলক্ষে মেলা বসে প্রতিবছর। মেলায় নানা তৈজসপত্র, ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন ধরনের কাঠ, বাঁশ, বেতের আসবাবপত্র বিক্রি হয়। মেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন।
বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলে এ পূজা উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকে। পূজার ৫ দিনই সন্ধ্যার পর হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে লাখ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে মাগুরায় পূজা মণ্ডপে। রাত যত বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, পূজা মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, মাগুরা পৌরসভা এলাকার নয়টি পূজামণ্ডপকে ঘিরে পুলিশ, র্যাব নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষ বোমা সনাক্তকরণ সুইপিং মেশিন ব্যবহার ও প্রতিটি মণ্ডপে ভিডিও ধারণ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।
এ পূজাকে ঘিরে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় মাগুরায়। এ পূজাকে ঘিরে এ অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। এ বছর কাত্যায়নী পূজা উপলক্ষে তিনদিনে কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।




