মাগুরানিউজ.কমঃ
গত কয়েকদিনের শীতে মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের একেবারে জবুথবু অবস্থা। কোথাও কোথাও চরম সীমায় নেমে এসেছে তাপমাত্রা। কোথাও ঘন কুয়াশায় সূর্যের আলোর দেখা নেই। আবার কোথাও দেখা মিললেও তীব্র বেগে বয়ে চলা হিমেল হাওয়া গায়ের চামড়া ভেদ করে হাড়কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। অত্যন্ত কষ্ট হলেও এর মধ্যেই চলছে মানুষের জীবনযাত্রা।
কথায় বলে- একবেলা না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু একটু শীতের কষ্ট সহ্য করা যায় না। কেমন কষ্ট শীতের যে তার ভয়ার্ত থাবায় মানুষ মারা পর্যন্ত যায়! এটা এমনই কষ্ট যে বলে বোঝানো যায় না। যার লাগে সেই জানে। যার এক বেলা চুলা জ্বলে না সে হয়ত একটু বেরিয়ে দু’চার মুষ্টি চাল সংগ্রহ করতে পারে কিন্তু যার একটু শীতের কাপড় নেই সে কিভাবে বাইরে বের হবে! সে শীত নিবারণের জন্য জড়োসড়ো হয়ে কোনো আড়ালে আবডালে হয়ত বসে আছে। উঠলেই তো তাকে শীতে জাপটে ধরবে। স্বল্প গরম থাকা রক্তকে শীতল করে তাকে যে চিরতরে হিম শীতল করে ফেলবে। এ কারনে এরা বের হতে পারছে না।
শীত নিবারণের মতো কাপড় না থাকায় তারা গরম হতে পারছে না। আওয়াজ করে কাউকে একটু ডাকতেও পারছে না। কেউ আবার আছে শীতে কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু লজ্জা বা কোনো শঙ্কায় কাউকে কিছু বলতে পারছে না। এরা আর কেউ না আমাদেরই মতো হাত-পা বিশিষ্ট রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। গায়ে পালক বা পশম দিয়ে সৃষ্টিকর্তা নিজে অন্য প্রাণীদের শীত নিবারণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
শীতের সীমাহীন তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। মানুষগুলো প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গরম কাপড় না থাকায় অনেকে গায়ে ছেঁড়া চট/বস্তা জড়িয়ে কোনোরকম শীত নিবারণ করছে।
নদীভাঙা মানুষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে, দুর্ঘটনায় সহায় সম্বল হারানো মানুষ, যাযাবর ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অসহায়ভাবে দিন যাপন করছে।
আমরা কি একটু সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি না? মানুষ তো মানুষের জন্যই। তবে কেন এই মুখ ফেরানো, কেন এই অবহেলা? অনেক অসহায় পরিবার পলিথিন বা ছিন্ন কোনো সামগ্রী দিয়ে ছোট-খাটো ঝুপড়ি/খুপড়ির নিচে হয়ত আমাদেরই আশপাশে বসবাস করছে।


