মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বারইপাড়ায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার লাউ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অধিকাংশের জমিতেই সারা বছর বারোমাসি লাউ চাষ করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার লাউয়ের সঙ্গে সাথী ফসল, পালংশাক, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষও করেছেন। তবে লাউকেই তারা প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে বারইপাড়া এখন লাউ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ গ্রাম থেকে চলতি বছর প্রায় ৬০ লাখ টাকার লাউ বিক্রি হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। খবর বাসসের।
এ বছর বারইপাড়া গ্রামে ৮৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। বাকি ২৫ হেক্টর জমি চাষ হয়েছে অন্যান্য সবজির। ওই গ্রামের অধিকাংশ কৃষক বারোমাসি জাতের লাউ চাষ করছেন। বারইপাড়া গ্রামের মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজে ঘেরা লাউ গাছ। কৃষকরা এ বছরের অক্টোবরে লাউয়ের বীজ লাগিয়েছেন। জমিতে লাউয়ের মাচা মেরামত, রোগবালাই প্রতিরোধসহ গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বর্তমানে লাউয়ের ভালো দাম পাচ্ছেন তারা।
এক বিঘা একটি ক্ষেত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি লাউ তোলা হচ্ছে। জেলার ঢাকা রোডের পাইকারি বাজারে এসব লাউ বিক্রয়ের জন্য পাঠানো হয়। পাইকারদের কাছে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। এ বাজার থেকে লাউ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন পাইকাররা। লাউয়ের রোগ বিশেষত পামকিন বিটেন, এপি লেকনা বিটেন, ছত্রাক, পাতা ঝলসানো, পাতা পোড়া রোগসহ বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ৩০ থেকে ৫০ জন কৃষক নিয়ে লাউয়ের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষ বিষয়ে গ্রুপ সভা করা হচ্ছে।
বারইপাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম, আবদুল হাই, ভিকু মোল্যা, তাহারুল শেখসহ অনেকে জানান, তারা প্রত্যেকে এক বিঘা করে জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এখান থেকে ৩০ থেকে ৪০টি লাউ বিক্রি করে তাদের প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। তারা ভালোভাবে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে পারছে। লাউ চাষে কৃষি বিভাগ তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান, উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে এ বছর অন্যান্য সবজির তুলনায় অধিকাংশ কৃষকই লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ বছর লাউয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে এই গ্রামটি এ বছর লাউ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।


