মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরে সুগন্ধি কালোজিরা ধানের আবাদ বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ল করা যাচ্ছে। অন্যান্য জাতের পাশাপাশি কৃষক সুগন্ধি ধানের চাষ করছেন। এ অঞ্চলে স্বচ্ছ, চিকন ও সুগন্ধি ধানচাষের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। সার্বিক সহোযোগিতা পেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা সম্ভব বলে কৃষকেরা জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ হয়। কৃষকেরা ব্যক্তি উদ্যোগেই এ ধান চাষ করেন। এর মধ্যে কালোজিরা, খাসকদম, ক্ষিরকদম, দুলাভোগ, কাটারিভোগ, চিনিগুঁড়া, জিরাভোগ ও চিনিআতপ সুগন্ধি জাতের ধান এ এলাকার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এসব ধানের চাল পোলাও, পায়েস ও ফিরনির জন্য উপযোগী। উন্নত বীজ, ধান সংগ্রহের পর মাড়াই, ছাঁটাই ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও অনেক কৃষক সুগন্ধি ধান চাষ করতে পারেন না।
কৃষকেরা জানান, সুগন্ধি জাতের ধানচাষের ক্ষেত্রে উন্নত বীজের স্বল্পতা ও ধানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অজ্ঞতাই প্রধান সমস্যা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-৭, বিআর-১০, বিআর-১৬, বিআর-২৩, বিআর-২৫, ব্রি-ধান ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও হাইব্রিড ধান ১ হচ্ছে উন্নত চিকন সুগন্ধি জাতের ধান।
এর মধ্যে কালোজিরা, খাসকদম, ক্ষিরকদম, দুলাভোগ, কাটারিভোগ, চিনিগুঁড়া, জিরাভোগ ও চিনিআতপ জাতের ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। কৃষকেরা এ ধানের চাষ নিয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। এ বছর আমন মওসুমে উফশী ব্রি-ধান-৩৪ হেক্টরে ৪০-৫০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। মানভেদে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ধান। জেলার উৎপাদিত সুগন্ধি চাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালান হচ্ছে।
নহাটার খোকন বিশ্বাস বলেন, এক সময় অবস্থাসম্পন্ন কিছু কৃষক সুগন্ধি ধানের চাষ করতেন; কিন্তু এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ ধানের চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এ উপজেলায় সুগন্ধি ধান চাষের ঐতিহ্য রয়েছে। এ জাতীয় ধানের আবাদ পরিবেশসম্মত এবং অপোকৃত কম উর্বর জমিতে ফলে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ জাতীয় ধানচাষে কৃষকের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

