মাগুরানিউজ.কমঃ

মধুমতি নদীর পূর্বপাশে যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। ধূসর বালি ফুঁড়ে বের হয়ে এসেছে এই সবুজ। নয়নাভিরাম এ সবুজের যেন কোন শেষ নেই। চরের বাদাম যে, সবুজ প্রকৃতি সৃষ্টি করেছে তা দেখা যাবে মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বনপাশ দিয়েপ্রবাহিত মধুমতি নদীর পাড়ে গেলে।দিগন্ত বিস্তৃত এই চরে শত শত কৃষক হাজার হাজার বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনেও বিপ্লব ঘটিয়েছে।
মধুমতি নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষ করে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন মাগুরা জেলার কৃষকরা। এ বছর জেগে ওঠা চরে অর্থকরী ফসল বাদামের বাম্পার আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৮০ হাজার মণ বাদাম উৎপন্ন হবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর নদী তীরবর্তী উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝামা, আড়মাঝি, দেউলি, যশোবন্তপুর, কালিশংকরপুর, সদর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া, কাশিপুর, ধুলজুড়ি, মুরাইল, রায়পাশা, ভোলানাথপুর, পাচুড়িয়া, রুইজানি, দীঘা ইউনিয়নের শিরগ্রাম, চরপাড়া, বাবুখালি ইউনিয়নের চর ছেলামতপুরসহ ২০টি গ্রামে জেগে ওঠা চরে বাদামের চাষ হয়েছে। এ বছর জেগে ওঠা চরে অর্থকরী ফসল বাদামের বাম্পার আবাদ হয়েছে।
মধুমতির করাল গ্রাসে উপজেলার নদী তীরবর্তী ১০ হাজার কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু মধুমতির বুকে বিস্তীর্ণ এলাকায় চর জেগে ওঠায় বাদাম চাষ করে তারা আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। এসব চরে বাদাম চাষের কারণে নদীভাঙ্গা মানুষের মুখে এখন সুখের হাসি। পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে তাদের জীবনযাত্রায়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এসব এলাকার ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যা থেকে ৮০ হাজার মণ বাদাম উৎপন্ন হবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।
উপজেলার ঝামা গ্রামের আছাদুজ্জামান, হরেকৃষ্ণপুরের মন্টু মিয়া, আড়মাঝি গ্রামের আজিজার রহমান ও দেউলী গ্রামের আব্দুল হামিদ ও দাউদ মোল্যা বাদাম চাষ করে নিঃস্ব থেকে এখন স্বচ্ছল কৃষক।
এসব কৃষকের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, নদীর চরে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
অন্যদিকে বাদামের জমিতে কাজ করে এ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবনে এসেছে স্বচ্ছলতা।
চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতি বছর মহম্মদপুরের বিভিন্ন হাটে বাদাম কিনতে আসা ব্যাপারী শাহজাহান মোল্যা জানান, এ এলাকার বাদামের মান উন্নত। দামও অপেক্ষাকৃত কম। তার মতো অনেক ব্যাপারীই এ এলাকার হাটগুলোতে নিয়মিত বাদাম কিনতে আসেন।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন এলাকার কৃষকরা এ ফসল আবাদের দিকে ঝুঁকছে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাদাম চাষীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।

