মাগুরানিউজ.কমঃ
মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া অন্য সঙ্গী বা যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মাগুরার চার উপজেলায় ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকদের এখন চরম দুর্দিন চলছে। মোটরসাইকেলে যাত্রী টানতে না পারায় প্রায় দুই হাজার চালক এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া অন্য সঙ্গী বা যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের এখন প্রধান বাহন মোটরসাইকেল। এক সময় যেসব এলাকার মানুষ মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে অথবা ভ্যানে যাতায়াত করতো তাদের এখন প্রধান বাহন মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেলে উঠে মানুষ ছুটছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আর এ মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার পথ বেছে নেয় এ অঞ্চলের বড় একটি বেকার জনগোষ্ঠী।
এখানে এখন আর এমন কোনো উপজেলা বা বড় হাট-বাজার নেই যেখানে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল পাওয়া যায় না। এককালের বেকার যুবকরা মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে হর্ন বাজিয়ে এ গ্রাম থেকে অপর গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। এদের অধিকাংশই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চাকরি না পেয়ে শক্ত হাতে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ধরেছেন। কারো কারো রয়েছে উচ্চতর ডিগ্রী।
দিনমজুরসহ অন্য কাজে আপত্তি থাকলেও মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে অর্থ উপার্জনে আপত্তি নেই এসব শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত যুবকদের। এটা একটা স্বাধীন ব্যবসাও বটে। মাগুরা জেলায় প্রায় দুই হাজার মোটরসাইকেল ভাড়ায় চলে। কিন্তু সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে। এ কারণে তারা যাত্রী বহণ করতে না পারায় বেকার বসে আছেন।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, প্রতিদিন সকল খরচ বাদ দিয়ে চার-পাঁচশ টাকা আয় হয়। বিশেষ সময়ে দ্বিগুণ উপার্জন হয়। গ্রামগঞ্জে যারা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা সকলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন। এখন তারা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।
সদরের মোটর সাইকেল চালক মুন্নাফ হোসেন বলেন, সে একটা গাড়ি কিনে ভাড়ায় চালানো শুরু করেন। এখন তার বারোটি গাড়ি। প্রতিদিন তার ৩-৪ হাজার টাকা আয় হতো। এখন তার সবগুলো গাড়ি অলস পড়ে আছে।
সদরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরিবিলি যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল একটি ভালো পরিবহণ। দিনদিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে আইনের কড়াকড়ির কারণে তারা এখন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।


