এবারও দেশের সবয়েছে জাকজমকপূর্ণ ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ কাত্যায়নী পূজার আয়োজন করা হয়েছে মাগুরায়। এ পূজাকে সামনে রেখে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে গোটা মাগুরায়।
ইতোমধ্যে পূজার সব প্রস্তুতি শেষ করেছে পূজা কমিটি। এ বছর শহরের প্রধান ৮টিসহ জেলায় মোট ৫৫টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কাত্যায়নী পূজা।
২৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২ নভেম্বর (দশমী) বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।
এছাড়া পূজা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ মেলার। ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে মেলা। যার মধ্যে প্রাধান্য পায় নতুন বাজারের ফার্ণিচার মেলা। যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা নানা কারুকার্য খচিত ফার্ণিচার নিয়ে হাজির হন।
দুর্গা পূজার ঠিক ১ মাস পর একই তিথিতে লাখ লাখ দর্শকের সমাগমে জাকজমকপূর্ণভাবে মাগুরায় কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। নবমীর দিনে বিভিন্ন মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় জগদ্ধাত্রী পূজা। শহরজুড়ে আলোকসজ্জা ও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে গোটা শহর পরিণত হয় উৎসবের শহরে।
প্রতিবছর এসব মন্ডপের সামনে এই উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হয় ৮০ থেকে ১০০ ফিট উচ্চতার বর্ণিল তোরণ। এছাড়া মন্ডপগুলো বেষ্টিত হয় বিভিন্ন পূরাকীর্তির আদলে। সন্ধ্যার সাথে সাথেই গোটা শহর আলোকিত হয় বাহারি আলোকসজ্জায়।
এ জেলায় কাত্যায়নী পূজাই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল থেকে বহু দর্শনার্থী মাগুরাতে আসেন পূজা দেখতে। এ উপলক্ষে শহরের বিভিন্নস্থানে দৃষ্টি নন্দন লাইটিং, তোরণ, গেট, প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চোখ জুড়ানো ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা।
শহরের জামরুলতলা, সাতদোহাপাড়া, নতুন বাজার, দরিমাগুরা, বাটিকাডাঙ্গা, পারনান্দুয়ালী, সাজিয়াড়া, শিবরামপুর পূজা মণ্ডপসহ বিভিন্ন মণ্ডপগুলোকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্যে ডেকোরেটরের কর্মীদের কাজ চলছে রাত জেগে।
পূজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষ বোমা সনাক্তকরণ সুইপিং মেশিন ব্যবহার ও প্রতিটি মণ্ডপে ভিডিও ধারণ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।
এ পূজাকে ঘিরে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় মাগুরায়। এ পূজাকে ঘিরে এ অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। এ বছর কাত্যায়নী পূজা উপলক্ষে তিনদিনে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।


