মাগুরায় পথে পথে শীতের পিঠা

মাগুরানিউজ.কমঃ 

j

কুয়াশার রহস্যময় চাদর ছড়িয়ে ও হিমেল হাওয়া নিয়ে হাওরাঞ্চলে আবির্ভাব হয় শীতকাল। শীতের ঠাণ্ডা হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো ভাপা পিঠার ঘ্রাণ ও সকালের কুয়াশা ভেদ করে মিষ্টি রোদের ছোঁয়া মানবকুলে বৈচিত্র আনে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি হচ্ছে শীতের সময়। কখনো কখনো নভেম্বরের শেষের দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্য ভাগ পর্যন্ত অবস্থান করে শীত।

এদিকে শীতকালে মুখরোচক খাদ্য হিসেবে পিঠা খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিটি ঘরে তৈরি করা হয় নানা রকম পিঠা। তবে ভাপা পিঠা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা, যা প্রধানত শীতকালে খাওয়া হয়।

আর এ শীতকালকে ঘিরেই মাগুরা জেলার বিভিন্ন বাজারে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পিঠা, গরম কাপড়সহ নানা ধরনের ব্যবসাও করে থাকেন। এর মধ্যে শীতকালীন পিঠার ব্যবসা অন্যতম।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের এ শুরুতেই জেলার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে স্কুল-কলেজের মাঠে এমনকি ফাস্টফুডের দোকানগুলোয় ভাপা পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে। মূলত পানির ভাপের সাহায্যে তৈরি করা হয় বলে আদিকাল থেকেই এ পিঠার নামকরণ করা হয় ভাপা পিঠা। প্রধানত চালের গুঁড়ার মধ্যে কিছু খেজুরের অথবা আখের গুড় দিয়ে তার ওপর আবার চালের গুঁড়া দিয়ে গরম পানির ভাপে তৈরি করা হয় এ মজাদার পিঠা। স্বাদ বাড়ানোর জন্য দেয়া হয় নারকেল।

ভাপা পিঠা বানানোর পাতিল তৈরি করা হয় বিশেষভাবে। পাতিলের ভেতর থেকে গরম পানি, তার ওপর ঢাকনার মাঝখানে একটি ছিদ্র থাকে। সেই ছিদ্রের ওপর কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয় কাচা পিঠা, আর সেই গরম পানির ভাপেই সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় এ সুস্বাদু পিঠা। এর পাশাপাশি চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, ম্যাড়া পিঠা ও তেলের পিঠাও অন্যতম। এ পিঠাগুলো আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়।

সারা দিনের কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে ফুটপাথে গড়ে তোলা পিঠাপুলির দোকানে এসে ভিড় জমান উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীর ক্রেতা। ক্রেতাদের জন্য দোকানে দুই পাশে রাখা হয়েছে লম্বা বেঞ্চ। দোকানে বেচাকেনা হয় ভালো, যা আজকাল পিঠা উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পিঠা তৈরি করে সংসার চালাচ্ছে নারী ও পুরুষ বিক্রেতারা। তাদেরই একজন মো. আবদুল আলিম (৩৫)। চার সন্তানের বাবা আলিম পিঠার ব্যবসা করেই সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ বহন করছেন। তবে তার এ ব্যবসায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী।

আলিম বলেন, “পিঠা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার চলে। দুই ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে আমার সংসারে তেমন অভাব নেই।”

তিনি জানান, শীত এলেই তিনি পিঠা বিক্রি করেন। কারণ এ সময় পিঠার ব্যবসা ভালো হয়। ভাপা পিঠা তৈরিতে খরচ এবং সময় দুটোই কম লাগে। সব সময় ভিড় থাকে দোকানে। প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করেই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে ফুটপাথ ধরে সারা দিনই চলে লোকজনের আসা-যাওয়া। এক কথায়, হরহামেশা ভিড় লেগে থাকে জেলার এসব দোকানে। সর্বস্তরের মানুষ ফুটপাথে তৈরি করা এ পিঠা ক্রয় করে ফুটপাথে বসেই খায়। পরিবারের জন্য পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: