মাগুরানিউজ.কমঃ
বাঙালি সংস্কৃতির কোথাও নেই, তারপরও গেল তিন দশক ধরে পহেলা বৈশাখে চলছে পান্তা-
দুইশো টাকায় ২০ ইলিশ! অবাক হওয়ারই কথা। যেখানে একটি ইলিশের দাম ১৬ হাজার টাকা, সেখানে ২০টি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুশো’ টাকায়; তাও আবার পয়লা বৈশাখের আগে?
অবাক হওয়ার কিছু নেই। আসলেই এমনটিই দেখা গেছে মাগুরার বাজারগুলোতে ঘুরে। শুধু বাজারগুলোতেই নয়, পথে ঘাটেও পাওয়া যাচ্ছে এমন ইলিশ। এগুলো আসলে ইলিশের বাচ্চা। যেগুলো আমাদের কাছে ঝাটকা হিসেবে পরিচিত। এমন ইলিশে এখন বাজার সয়লাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাজারে আনার পথে বা বাজার থেকে এরূপ ইলিশের বাচ্চা কিঞ্চিত জব্দ করছে। তাও হয়তো শতকরা একভাগ। বাকীগুলো ঠিকই বাজারে কেনা বেচা হচ্ছে। যেসব এলাকায় জেলেরা ঝাটকা ধরছে সেখানে নেই কোনো অভিযান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এভাবে শত শত মন ইলিশের বাচ্চা ধরছে অসাধু জেলেরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে ম্যানেজ করেই জেলেরা এই মাছ ধরে বিক্রি করছে পাইকারদের কাছে। আর পাইকাররা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এগুলো প্রকাশ্যেই বিক্রি করছে। ঝাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময়েও ঝাটকা নিধন বন্ধ হয়নি।
আজ সকালে মাগুরা পুরাতন বাজারে গিয়ে দেখা যায় অন্তত পাঁচটি মাছের দোকানে ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে। পাঁচটি দোকানে অন্তত দুই মন জাটকা রয়েছে।
তারা বলেন, জাটকা বিক্রি নিষিদ্ধ কি-না তা তারা জানেন না। তারা মাছ বিক্রি করছেন। কি মাছ বিক্রি করছেন তা জানার বিষয় তাদের না।
আবার নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে তবে তা চাপিলা নাম দিয়ে। বিক্রেতারা স্বীকার করতে চাচ্ছেন না ওগুলো ইলিশের বাচ্চা। তারা ‘চন্দনা’ বা ‘চাপিলা’ নাম দিয়ে ওগুলো বিক্রি করছেন। এখানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ’ টাকা।
কাদের জানান, এভাবে প্রতিদিনই তিনিসহ অনেকেই বিক্রি করে আসছেন, কিন্তু কেউ তাদের কিছু বলেন না। এমনকি, পুলিশ সদস্যরাও অনেক সময় ঝাটকা কিনে নিয়ে যান। তিনি বলেন, শুনেছেন ঝাটকা বিক্রি করা নিষেধ। কিন্তু কি করবেন। ঝাটকা বিক্রি করা সহজ অন্যান্য মাছের তুলনায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর থেকে শুরু করে পদ্মা-মেঘনা হয়ে ভোলার মোহনা পর্যন্ত নদ-নদীতে অন্তত দুই হাজার জেলে রয়েছেন যারা নিয়মিত ঝাটকা ধরছেন। তাদের রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। তারা লাথ লাথ টাকা লগ্নি করছে এই জেলেদের পেছনে। জাল-নৌকা কিনে দিচ্ছে। বিনিময়ে তারা মাছের একটি অংশ নিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় জেলেরা দাদন নিয়ে থাকেন। এই দাদনের টাকা শোধ করতে ঝাটকা ধরতে বাধ্য হয়। এসব মৎস্য মাফিয়াদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনসহ অনেকেরই সম্পর্ক রয়েছে। একারণে প্রকাশ্যে তারা ঝাটকা নিধন এবং ঝাটকা নিধনে জেলেদেরকে বাধ্য করলেও কারো কিছু বলার নেই।
সূত্র জানায়, এসব ঝাটকার দু’একটি চালান মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। এসময় হয়তো বহনকারীদের দু’একজন গ্রেফতার এবং কখনো কখনো ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের জেল-জরিমানা হয়। কিন্তু এর হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে।




