মাগুরায় এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

মাগুরানিউজ.কমঃ 

1_54152

মাগুরার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশের কোনো তোয়াক্কাই করছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।  

জানা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলায় দুইটি সরকারি, ১৪৭টি এমপিওভূক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭২টি মাদ্রাসা রয়েছে। নামি-দামিসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণের কাজ ১২ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে। আর পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি।  

যশোর বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, ফরম পূরণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি প্রতিপত্র ৬৫, ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ৩০, একাডেমিক  ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৩৫, মূল সনদ ফি ১০০, বয়েজ স্কাউট/গার্লস গাইড ফি ১৫ ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা করে বোর্ড থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই তাদের ২৫০ এবং যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে তাদের ৩০০ টাকা কেন্দ্র ফি দিতে হবে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এ সব ফির সঙ্গে বাড়তি ১০০ টাকা দিতে হবে।

অথচ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণের সঙ্গে তিন মাসের বেতন, সেশন, কোচিং ও মডেল টেস্ট ফি ইত্যাদি মিলিয়ে তিন থেকে ছয় হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি স্কুলগুলোতে বিভাগ ভেদে এক হাজার ৫৮০ থেকে এক হাজার ৬৭০ টাকা ফরম পূরণ বাবদ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য ও মানবিক শাখায় ফরম পূরণ ও কেন্দ্র ফিসহ এক হাজার ২৯৫ এবং বিজ্ঞানে এক হাজার ৩৮৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।  

অভিভাবকদের অভিযোগ, রসিদ ছাড়াই বিভিন্ন খাত দেখিয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সম্পর্ক নষ্ট ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হবে এমন ভীতিতে অভিভাবকরা শিক্ষকদের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।  

এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়ে গত ১০ নভেম্বর উচ্চ আদালত রুল জারি করেন।   শ্রীপুরের লাঙ্গলবান্দ এলাকার অভিভাবক আরাফাত আলী বলেন, ‘পাঁচ বছর একটি ছাত্রকে পড়ানোর পর শিক্ষকেরা কিছু বেশি টাকা দাবি করেন। কিন্তু এবার টাকার পরিমাণ অযৌক্তিক পর্যায়ে চলে গেছে।’  

মাগুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি কে  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.কে নূরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ফিস, বিশেষ ক্লাস, কোচিং ফিসহ নানা খাতে বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের জন্য তিন হাজার  টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা।  

বসুরধুলজুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুর রহমান জানান, তারা বিজ্ঞানে প্রায় তিন হাজার ৫০০ এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে তিন হাজার ২০০ টাকা ফি নিচ্ছেন। এর মধ্যে কোচিং ফি, কর্মচারী ফিসহ নানা খাত রয়েছে।  

শালিখার আড়পাড়া আইডিয়াল বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার ৭০০ ও মানবিকে দুই হাজার ৬১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে।

শ্রীপুর এমসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক জানান, স্কুলজীবনের শেষ সময় তার সন্তান ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে। শিক্ষকদের হাতে পরীক্ষার নম্বর, তাই এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না। সূত্র আরো জানায়, উপজেলাগুলোয় একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি রয়েছে। সংঘটনের মাধ্যমে এ সব সমিতি জোটবদ্ধ হয়ে একযোগে এসএসসি ফরম ফিলআপের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে তিন হাজার ২০০ এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে তিন হাজার ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রুপ সমর্থিত শিক্ষক সমিতি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে দাখিল মাদ্রাসাগুলো প্রায় তিন হাজার টাকা করে পরীক্ষা ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।  

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমন্ডল চন্দ্র মন্ডল এ সব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এ ধরনের একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। তাই স্কুলগুলোতে পর্যবেক্ষণ টিম পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। বোর্ড নির্ধারিত ফিসের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তা আইনানুগ হবে না।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: