মাগুরানিউজ.কমঃ
পুলিশের হাতে আটক বিরল প্রজাতির ৪৯৯টি কচ্ছপের বাচ্চা বৃহস্পতিবার রাতে ফটকি নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। মাগুরার শালিখা উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে কচ্ছপের বাচ্চাসহ মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।
কচ্ছপের বাচ্চাগুলো ঢাকার গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পাচার করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটককৃত রফিক যশোরের শার্শা থানার হরিনাপোতা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ।
মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন রায় বলেন, ‘মাগুরা-যশোর সড়কের সীমাখালি বাজার এলাকায় সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ প্রাইভেটকারটি থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চালক শালিখার সিংড়া বাজার এলাকায় প্রাইভেটকার রেখে পালিয়ে যান। এ সময় পুলিশ যাত্রী রফিকুল ইসলামসহ প্রাইভেটকারটি আটক করে। প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬ কেজি গাঁজা ও কচ্ছপের ৪৯৯টি ছোট-বড় বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। কচ্ছপের বাচ্চাগুলো দুটি পাটের তৈরি বস্তায় ছিল।’
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপের বাচ্চা জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে জানানো হয়। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বন বিভাগের এক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শালিখার ফটকি নদীতে অবমুক্ত করা হয়। সবকটি বাচ্চা জীবিত ছিল বলে তিনি জানান।
এ দিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল নিজেকে মাদক পাচারকারী বলে স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় শালিখা থানায় মামলা হয়েছে। যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে রফিকুল নিয়মিত গাজীপুরে মাদক চালান নিয়ে আসেন। তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিরও কোনো লাইসেন্স নেই। উদ্ধার করা গাঁজা ও কচ্ছপের বাচ্চার দাম নয় লাখ টাকার বেশি। কচ্ছপসহ বিরল প্রজাতির বিভিন্ন বন্য প্রাণি সে পাচার করত বলে পুলিশকে জানায়।’
মাগুরা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার মিত্র জানান, আটককৃত কচ্ছপগুলি বিরল প্রজাতির ও বিলুপ্তপ্রায়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এগুলি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জীবিত অবস্থায় সবকটি বাচ্চা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এই কচ্ছপের বাচ্চা বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি জানান।


