মাগুরানিউজ.কমঃ
চলছে মধুমাস। চোখে পড়বে গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় কাঁচাপাকা লিচু। বাগান মালিকরা ব্যস্ত লিচু খাঁচায় ভরে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর কাজে। আর বাগানের ঝড়ে যাওয়া কিংবা বাছাইয়ে বাদ পড়া লিচু সংগ্রহ করে এনে রাস্তার ধারে লিচুর পসরা নিয়ে বসেছে এলাকার শিশুরা। এরকমই দৃশ্য দেখা যায় মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা-হাজরাপুর এলাকায়।
সারি সারি লিচু বোঝাই পাত্রগুলো সাজিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। গাছ থেকে লিচু পাড়ার সময় ও বাছাইয়ের সময় ঝড়ে পড়া লিচু সংগ্রহ করে পসরা সাজিয়ে বসে থাকার দৃশ্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে। এ যেন এক অন্য রকম লিচু উৎসব।
প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার দু‘ধারে স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা ঝড়ে পড়া লিচুর পসরা নিয়ে বসেছে। কমদামে লিচু পেয়ে গ্রাহকরাও লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে এখান থেকে।
লিচু নিয়ে বসে থাকা পঞ্চম শ্রেণীল ছাত্র আরাফাত রহমান জানান, স্কুল ছুটি চলছে। তাই আমি ঝড়ে পড়া এবং বাছাইয়ের সময় বাদ পড়া লিচু সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছি। এতে যে টাকা পাব তা দিয়ে আমি ঈদের সময় নতুন মোবাইল কিনবো।
৫ বছরও বয়স হয়নি লিলিমা খাতুন। টিফিন বাটিতে করে লিচু নিয়ে এসে বিক্রি করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। লিচু বিক্রির টাকা কী করবে এমন প্রশ্নের উত্তরে লিলিমা জানান, জামা চুড়ি কিনবো।
লিচু কিনতে আসা রিকশাচালক রশিকুল আলম বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষরাই এখানকার বেশিরভাগ ক্রেতা। অনেক ভালো ভালো লিচু কম দামে কিনতে পাওয়া যায়। তবে পথচারীরাও এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যায়।
শিশুর অভিভারক মো. মুন্নাফ জানায়, শিশুরা খেলার ছলে লিচু সংগ্রহ করে এবং রাস্তার ধারে বসে বিক্রয় করে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২শ টাকা পায়। এই টাকায় শিশুরা নতুন পোশাক নেয়ার পাশাপাশি অনেক শিশু তাদের পড়ালেখার জন্য খাতা কলম, প্রাইভেটের বেতন ও স্কুলের বেতন দিতে পারবে।


