মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মুলা চাষ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জনা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৪ উপজেলায় ২৭৫ হেক্টর জমিতে মুলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০৫ হেক্টর, শ্রীপুরে ১০০ হেক্টর, মহম্মদপুরে ৫০ হেক্টর এবং শালিখা উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে মুলা চাষ হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন মুলা উৎপাদিত হবে হবে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, বর্তমানে মুলা কৃষকদের কাছে অনেকটা অর্থকারি ফসল। কৃষকরা কম খরচেও কম সময়ে মুলা চাষ ও তা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর মুলা চাষের ১৫ দিনের মধ্যে শাকসহ ছোট মুলা বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে শাকবিহীন মুলা ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
তাদের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলায় কোন স্থানীয় জাতের মুলা চাষ হয়নি। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি-তাসাকিসান জাতের মুলা ও চায়না ও জাপান হাইব্রীড মুলার চাষ হয়েছে। এসব জাতের মুলা সারা বছর চাষ করা যায়।
এ ছাড়া মুলা চাষে কৃষকরা কয়েকটি সুবিধা পেয়ে থাকে। মুলার পাশাপাশি এর পাতাও শাক হিসেবে বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া আন্ত ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি ও রবি ফসলের সাথে মুলা চাষ করে জমির বহুমুখি ব্যবহার করা য়ায়। এতে জমির উর্বরতা ঠিক থাকে। এবার কৃষকরা মে মাস থেকে মুলা চাষ করে ১ মাসের মাথায় তা তুলে একই জমিতে আবার মুলা লাগাচ্ছেন। যা একক অথবা সাথী ফসল হিসেবে পুরো শীত মৌসুম পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুলা চাষে তাদের তেমন কোন খরচ হয়নি। খুব স্বল্প খরচে তারা মুলা উপাদন করছেন। কৃষি বিভাগ মুলা চাষে তাদের জমিতে স্থানীয়ভাবে জৈব সার ও অল্প পরিমাণে পটাস সার দেয়ার পরামর্শ দেয়ায় মুলা খুব ভালো হয়েছে। তারা মুলার ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মুলা চাষে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা খামারপাড়া গ্রামের তহুর মোল্যা ২৩ শতক এবং জামাল বিশ্বাস ৩৩ শতক জমিতে মুলা চাষ করে যথাক্রমে ২৭ মণ ও ৪০ মণ মুলা পেয়েছেন। তারা শাকসহ ছোট মুলা বিক্রি করেছেন ২০ থেকে ২৫ টাকায়। শাক বিহীন প্রতি মণ মুলা বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। এ দুই কৃষকর কয়েক দিনের মধ্যে তাদের জমি থেকে মুলা উঠিয়ে অন্যান্য সবজির মধ্যে সাথী সফল হিসেবে আবার মুলা চাষ করবেন বলে জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, মুলা বর্তমানে একটি অর্থকারি ফসল। এটা চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এ কারণে একক ও সাথী সফল হিসেবে মুলা চাষ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ এটি চাষে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।


