মাগুরানিউজ.কমঃ
কুমার নদের উত্তর পাড়ে ছায়াঢাকা পাখিডাকা এক আশ্চর্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ৪ একর ৯০ শতক জমির উপর ২২ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ও দ্বিতল ভবন নিয়ে শ্রীপুর মহেশচন্দ্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়টির প্রথম প্রধান শিক্ষক বাবু রাম নারায়ন কর (এম,এ,)।
শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতনটির ভিত্তি স্থাপন করেন এতোদাঞ্চলের হিন্দু মুসলমান হৃদয়বান ব্যক্তিদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রখ্যাত সমাজসেবক ও আইনজীবি বাবু সুরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তাঁর পিতার স্মৃতিকে কালের কপোলতলে সমুজ্জল করে রাখার মানসে এই বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় পিতার নামে “শ্রীপুর মহেশচন্দ্র বিদ্যালয়”।
মহেশচন্দ্র বিশ্বাস ছিলেন তৎকালীন জমিদার ও আইনজীবি। এই বিদ্যালয় স্থাপনের সঠিক তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয়টি ১৯১১ সাল পর্যন্ত এম, ই (মধ্য ইংরেজী) স্কুল হিসাবে চালু ছিল এবং তখন প্রধান শিক্ষকছিলেন বাবু প্রসন্ন কুমার (এফ, এম)। ১৯০২ সালে বিদ্যালয়টি এইচ. ই (উচ্চ ইংরেজী) বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। এটাই এই উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যালয়।
১৯৪৫ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিদ্যালয়টি স্থায়ী স্বীকৃতি লাভ করে – যা আজও প্রচলিত। এখানে শিক্ষার মান, পরিবেশ সন্তোষজনক বিধায় ১৯৮৮ সালে মাগুরা জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন বাবু রাম নারায়ণ কর, এম, এ, বাবু রমনী মোহন বসু, এম, এ, বি, লে, বি, টি আব্দুর রহিম জোয়াদার (বি, এ, বি-টি), অখন্ড বাংলার প্রখ্যাত কবি – মনিষী কাজী কাদের নওয়াজ (বি,এ,বি-টি) প্রমুখ মহৎ প্রাণ -জ্ঞান তাপসবৃন্দ।
১৯৭৬-৭৭ সালে সদাশয় সরকার বিদ্যালয়টিকে পাইলট প্রকল্পভুক্ত করেন এবং ১৯৮২ সালে এই বিদ্যালয়ের সাথে ‘কমিউনিটি সেন্টার’ প্রকল্প অন্তভুক্তি লাভ করে। এই প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু মনিষীর আগমনে ধন্য হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এশিয়া মহাদেশের স্বনামধন্য পণ্ডিত ড. মহম্মদ শহীদুল্লাহ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বিদ্যালয়টি এই এলাকার একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।





