মাগুরানিউজ.কমঃ
আবু তালেব মোল্যা (৬৫)। এই নামে তাকে খুব কম লোকেই চেনে। যদি বলেন লিচু তালেব, তাহলে এলাকার ছয় বছরের শিশুরাও তাকে চিনিয়ে দিতে পারবে। নামের আগে লিচু স্থায়ী হয়ে যাওয়া নিয়ে তার কোন আক্ষেপ নেই। কারণ লিচু চাষই তাকে সব দিয়েছে দু’হাত ভরে। বাণিজ্যিক লিচু চাষ একটি পরিবারের কতটা সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে তার উজ্জল দৃষ্টান্ত এই আবু তালেব মোল্যা।
আবু তালেব মোল্যার বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বসুরধুলজুড়ি গ্রামে। লিচু চাষ করে নিজের ভাগ্য ফেরানোর পাশাপাশি তার পরামর্শে এ এলাকার হাজারো মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন তিনি। তার সাফল্যের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে।
দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া তেমন হয়নি। বাবা ধুনা উল্লাহ মোল্যার জমিজমা তেমন ছিল না। সব মিলে পিতার ৫০ শতক জমি ভাগে পান তিনি। স্ত্রী আর ৫ ছেলে আর ৫ মেয়ের বড় সংসার চালাতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখতেন তিনি। উন্নতি দূরের কথা পরিবারের সবার মুখে পেট ভরে দু’বেলা ভাত তুলে দেওয়াই তার জন্য ছিল কঠিন বিষয়।
৯০ সালের কথা। চাকরি সূত্রে দিনাজপুরে বসবাসকারি তার এক আত্মিয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেন তালেব। বাণিজ্যিক লিচু চাষ দেখলেন। চোখ খুলে তার। কয়েকদিন ধরে ঘুরে ঘুরে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে লিচু চাষ আয়ত্ব করলেন। সাথে করে নিয়ে আসলেন লিচুর উন্নত জাতের দশটি চারা। মাত্র পাঁচ শতক জমিতে রোপণ করলেন। শুরু হলো অন্য এক সংগ্রাম। ধান-পাট রেখে লিচুর আবাদ করায় অনেকেই তাচ্ছিল্য করলেন। কয়েক বছর পর লিচু ধরা শুরু করলে সবাই অবাক। প্রথম বছরেই লাভ করলেন ১০ হাজার টাকা। আস্তে আস্তে চাষ বাড়াতে লাগলেন।
আবু তালেব মোল্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচ শতাংশের লিচু বাগান এখন ৫০ একর ছাড়িয়েছে। লিচু বিক্রি করে বছরে তার এখন আয় ১০লাখ টাকার উপরে। ১০ একর জমি কিনেছেন লিচু বিক্রির টাকায়।
অপরদিকে লিচু বাগানের জায়গায় সাথী ফসল হিসাবে নেপিয়ার ঘাসের আবাদ করেন। ঘাস বিক্রি করে আয় হয় বছরে আরও ২ লাখ টাকা। এই ঘাসের উপর নির্ভর করে গড়ে তুলেছেন দুগ্ধ খামার। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলেকে মধ্যেপ্রাচ্য পাঠিয়েছেন। অন্য ছেলেরা পড়ালেখা শেষ করে দেশে ভালো চাকরি করছেন। এই লিচু চাষ বদলে দিয়েছে তার জীবন।
তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকায় অনেকেই লিচু আবাদ করছেন এমন কয়েকশ বাগান গড়ে উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়। লাভজনক হওয়ায় দিনদিন লিচুর আবাদ বাড়ছে। চায়না, বোম্বে ও মুজাফফরপুরি জাতের লিচুর আবাদ বেশি হচ্ছে এসব বাগানে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারিরা এসে পাইকারি দরে বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মহম্মদপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, ‘আবু তালেব মোল্যা এ এলাকায় লিচু চাষের রোল মডেল। তার কাছ থেকে শিখে অনেকেই সফল লিচু চাষি।’
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ‘লিচু চাষ অত্যন্ত লাভজনক । দিনদিন এর আবাদ বাড়ছে। আবু তালেব মোল্যা একজন সফল লিচু চাষি হিসাবে মাগুরার পরিচিত মুখ।’


