রাজীব মিত্র জয়, মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় শ্রমিকবাহী ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ নয় জনের মধ্যে রওশন আলী ও শাকিল আহমেদ , মো. মতিন নামে তিন জন মারা গেছেন। বাকী ছয় জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় সদর উপজেলার মালিকগ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষম একমাত্র মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিহতদের স্ত্রী ও সন্তানরা।
পেট্রোলবোমা হামলায় নিহত ও দগ্ধ সবার বাড়ি মালিক গ্রামে। দগ্ধ নয় জনের মধ্যে নিহত রওশনসহ চার জনই একই পরিবারের সদস্য। মালিকগ্রামে রওশন ও শাকিলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেছে। হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা রওশনের মূল পেশাই ছিল দিন মজুরী। ট্রাকে দৈনিক শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় চলতো স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব ও দিশেহারা। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী শুকরণ নেছা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
রওশনের ভাই রকিব বিশ্বাস মাগুরানিউজ’কে জানান, ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ নয় শ্রমিকের মধ্যে চার জনই একই পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে মৃত ছোটভাই রওশন ছাড়াও তার নিজের ছেলে আরব আলী (২১), ছোট ভাই ইলিয়াস (৩২) ও অপর ভাইয়ের ছেলে মতিন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।
রওশন বিশ্বাসের বোন আলেয়া বেগম মাগুরানিউজ’কে বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের শিশুসহ তিন সন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য বালু শ্রমিকের কাজ করতেন রওশন। শনিবার রাতে তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অকুল পাথারে পড়েছে। পরিবারের দেখাশোনা করার মত এখন আর কেউই রইল না। তিনি এ পরিবারটির ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
রওশন বিশ্বাসের স্ত্রী শুকুরন নেছা মাগুরানিউজ’কে বলেনন, সকালে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার সময় বলেছিলেন ২ দিনের হাজিরার টাকা নিয়ে রাতে বাজার করে বাড়ি আসবেন। আর এলেন না।
বড় পুত্র সাব্বির জানান, সকালে বাবা তাকে মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
আহত অন্য পাঁচ জনও একই এলাকার বাসিন্দা। প্রতিটি বাড়িতেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। পুরো এলাকাতেই অস্বাভাবিক নিরবতা।
হতভাগ্য শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন দিশাহারা। ‘দিন আনি দিন খায়’ এভাবে চলে যাদের জীবন, তাদের পরিবারের উপাজনকারী না থাকলে কি অবস্থা হতেপারে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
রান্না হয়নি বেশিরভাগ বাড়িতেই। পুরো গ্রামটাই যেনো মৃত্যুপুরি।
কিভাবে হবে চিকিৎসা? পুরোপুরি সুস্থ কি হতে পারবে? পরিবারগুলো এখন কি করবে? সবচেয়ে জরুরী সংকটময় এই সময় তারা কাটাবেন কি করে?
সবচেয়ে বড়কথা তারা এখন খাবেন কি? সংসার চলবে কিভাবে? এরকম নানা প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে দিশাহারা করে ফেলেছে। ছোটশিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
দেখাগেলো ইতিমধ্যেই সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশিরা। আশেপাশের বাড়ি থেকে আসছে খাবার।
মাগুরাবাসী আমরা কি ওদের পাশে দাড়াতে পারিনা? মাগুরার প্রতিটি মানুষের কাছে অসহায় ঐ পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর আহবান রইল।
শেয়ার করুন আমাদের এই আবেদন। ছড়িয়ে দিন প্রতিটি মাগুরাবাসীর কাছে, এখন তাদের প্রয়োজন। মাগুরার পাশে দাড়ান। বাড়িয়ে দিন আপনার সহযোগিতার হাত।
এ বিষয়ে মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান অসহায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। আহবান জানিয়েছেন সংকটময় এই সময়ে মাগুরার কৃতি সন্তানদের এগিয়ে এসে অগ্নিদগ্ধ ঐ পরিবার গুলোর পাশে দাড়াবার জন্য।
মাগুরাবাসী আসুন আমরা আমাদের সুযোগ অনুযায়ী অগ্নিদগ্ধ ঐ পরিবার গুলোর পাশে দাড়াই। আপনাদের সহযোগিতা ওদেরকে এই দুঃসময় কে কাটিয়ে আবারো চলতে সহযোগীতা করবে।
অগ্নিদগ্ধ ঐ পরিবার গুলোর পাশে থাকুন। মাগুরার পাশে থাকুন।
এ বিষয়ে জানতে ও জানাতে ফোন করতে পারেন ০১৮৫৫৪৮৫৫৩৮ নাম্বারে।




