মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার বাজারগুলোতে এখন শীতের সবজিতে ভরপুর। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকও খুশি। মাগুরার সবজি চালান হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে সবজির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষক দ্রুত সে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলা সদরসহ চারটি উপজেলায় এক হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ করা হয়েছে। আগাম রোপণ করা সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাধাকপি, বেগুন, টমেটো, সীম, লালশাক, পালংশাক, লাউ ও গাজর।
মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক মূলা, ফুলকপি, বাধাকপি ও লালশাক সবার আগে রোপন করেন। ইতোমধ্যে এসব সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষক এখন শীতের সবজির পরিচর্যা ও বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয়। মহম্মদপুর ও শ্রীপুর উপজেলাতেও সবজির চাষ হচ্ছে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন কৃষক ব্যাপকভাবে সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
মাগুরার সবচেয়ে বড় সবজির পাইকারি বাজার ঢাকা রোড এলাকা (পারলার মোড়) ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজির সমাগমে আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ বাজার। বাজারে প্রচুর শীতের আগাম তরতাজা সবজি আসতে শুরু করেছে। ট্রাক বোঝাই হয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা ও পালংশাক সবার আগে বাজারে এসেছে। অন্যান্য সবজিও এসে যাবে অচিরেই।
বিভিন্ন বাজারের সবজি পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি বিদেশে রফতানি করছেন। নড়িহাটি এলাকার সবজি চাষী নজরুল ইসলাম জানান, শীত শুরু হয়েছে সে কারণে শীতকালীন শাক-সবজি চাষাবাদ করছি।
জগদল এলাকার চাষী খলিলুর রহমান বলেন, শীতের আগেই শীতকালীন শাক-সবজি জমিতে লাগিয়েছিলাম। সেগুলো এখন বাজারে বিক্রি করছি। আগাম শীতকালীন সবজি বিক্রি করে ভালো লাভবান হচ্ছি।
পাইকারী ক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, এখান থেকে এসব শাক-সবজি কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের বাজারগুলোতে পাইকারি বিক্রি করে থাকি।
মহম্মদপুর উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের সবজি চাষী আজিজার রহমান বলেন, আগাম শীতের সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষক ব্যাপকহারে সবজি চাষ করছেন। মৌসুমের শুরুতে দু দফা ভারি বর্ষণে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পরে পুষিয়ে নিয়েছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান জানান, সবজি চাষের জন্য আদর্শ ও উর্বর এলাকা হিসেবে মাগুরা জেলার সুনাম দীর্ঘদিনের। মৌসুমের স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকও ব্যাপক সবজি চাষে ঝুঁকছেন।জেলায় উৎপাদিত সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে সবজি চাষের যে টার্গেট তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।



