মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা সদর উপজেলার ৩০ গ্রামে এবারও লিচুর বাম্পার ফলন হবে মনে করছেন লিচুবাগানীরা। এ বছর দেড় হাজারেরও বেশি চাষী লিচু বিক্রি করে ২০ কোটিরও বেশি আয় করবেন বলে আশা করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বসবে লিচুমেলা। মে মাসের শেষদিকে হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা। হাজরাপুর কৃষক উন্নয়ন সমিতি প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করে থাকে। এরই মধ্যে মাগুরার লিচু ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। মেলা কমিটির আয়োজকেরা মাগুরানিউজকে জানান, সারাদেশে মাগুরার লিচুর সুনাম ছড়িয়ে দিতেই মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
মাগুরার ৩০ গ্রামে বাণিজ্যিকভিত্তিক লিচু বিপ্লবে কয়েকশ’ পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। লিচু চাষ করে সেসব পরিবার জয় করেছে দারিদ্র্য। অভাব-অনটনের নিত্যছায়া দূর হয়ে গেছে তাদের। ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে লিচু চাষ। লিচু চাষ করে এখন তারা স্বাবলম্বী।
১৯৯৪ সালে মাগুরায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষের গোড়াপত্তন ঘটে। সদর উপজেলার ইছাখাদা গ্রামের আবদুল হালিম বাড়ির আঙিনায় প্রথম ১০টি লিচু গাছ লাগিয়ে যাত্রা শুরু করেন বলে মাগুরানিউজকে জানিয়েছেন এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা। আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় পরবর্তী বছরে লিচু চাষ সম্প্রসারণ করেন আবদুল হালিম। তিনটি বাগানে বর্তমানে তার লিচু গাছের সংখ্যা শতাধিক।
আবদুল হালিমকে অনুসরন করে পরে মাগুরার হাজীপুর, হাজরাপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, গাঙ্গুলিয়া, মিঠাপুর, মির্জাপুর, খালিমপুর, বীরপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বামনপুর, রাউতাড়া, বেরইল, আলমখালী, নড়িকাটি ও লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ৩০টি গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ হচ্ছে। বর্তমানে হাজরাপুর, হাজিপুর, রাঘবদাইড় এ তিন ইউনিয়নে ৩০টি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। দেড় হাজার কৃষক পরিবার এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
একাধিক কৃষক মাগুরানিউজকে আরও জানান, লিচুর বাগান করতে প্রথম বছর একটু খচর বেশি হলেও পরে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। অসংখ্য লিচু চাষী আছেন যারা শূন্য থেকে শুরু করে লাখপতি হয়েছেন। মাগুরায় উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, পাবনা, পিরোজপুর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এছাড়া স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, বরিশাল, মাদারীপুর, পিরোজপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বেপারিরা পাইকারি দামে বিপুল পরিমাণ লিচু কিনে নিয়ে ব্যবসা করে লাভবান হন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাগুরানিউজকে বলেন, লিচু চাষে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। মৌসুমের শুরুতে গাছে ফুল এলে স্প্রে ও সামান্য পরিচর্যা করলেই হয়। তিনি আরও জনান, এখানে চায়না থ্রি, বোম্বাই, মোজাফফর ও স্থানীয় হাজরাপুরী জাতের লিচু চাষ হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকালে চলতি মৌসুমেও লিচুর বাম্পার ফলন হবে।




