মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলার সর্বত্র ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। শরীরে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছে মাগুরা সদর হাসপাতালে। অনেকে গ্রাম্য চিকিৎসকেরও শরণাপন্ন হচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, জেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ঘরেই এক বা একাধিক মানুষ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। এই জ্বর ছয় থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকছে।
আবার অনেকের জ্বর স্থায়ী থাকছে ১০-১২ দিন পর্যন্ত। তবে এ জ্বরে ভয়ের কোনো কারণ নেই। বেশিরভাগ রোগীকে চিকিৎসা-পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের কোন একজনের জ্বর হলেই বাকী সদস্যরাও এর শিকার হচ্ছেন। হাসপাতাল, ডাক্তারের চেম্বার ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ব্যাপক হারে ভীড় করছে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শতশত জ্বরের রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। এ জ্বরে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। জ্বর আসলে শরীরের প্রচন্ড তাপে রোগীরা বেশী দূর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে জ্বরের তাপে শিশুদের মধ্যে এমন অনেক শিশু রয়েছে যাদের খিচুনি উঠে যাচ্ছে।
হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারনের জায়গা নেই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সদর উপজেলা কচুবাড়ী গ্রামের শহিদুল ইসলাম মিঠু জানান, তিনি ছয় দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। মাঝে মাঝে শরীরে কাঁপুনি দিয়ে প্রচণ্ড জ্বর আসছে। শরীর দুর্বল লাগছে, শক্তি পাচ্ছেন না। চিকিৎসা চলছে কয়েক দিন ধরে। কিন্তু তার জ্বর কমছে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ রোগ দেখা দিচ্ছে। শরীরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

