মাগুরাতে ধনিয়ার হাঁসি

মাগুরানিউজ.কমঃ

pak2014kjh1103185506

মাগুরায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে ধনিয়া চাষে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়া চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার চার উপজেলার মধ্যে মহম্মদপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে ধনিয়া চাষ হয়েছে। এ উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে ধনিয়া চাষ হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলায় ১৩০ হেক্টর, শ্রীপুর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর এবং শালিখা উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে ধনিয়া চাষ হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন ধনিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ধনিয়া চাষ সফল করার লক্ষ্যে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। চলতি মৌসুমে স্থানীয় জাতের ধনিয়ার চাষ বেশি হলেও এর পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি-১ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধনিয়া চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।

জেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকরা ১৫ হেক্টর বারি-১ জাতের ধনিয়া চাষ করেছে। যা থেকে স্থানীয় জাতের তুলনায় দেড় গুণ বেশি ধনিয়া উৎপাদন হয়। স্থানীয় জাতের তুলনায় উচ্চ ফলনশীল এ জাতের ধনিয়া গাছে রোগ-বালাই তেমন হয় না। এ ছাড়া শীতের সময় কুয়াশায় এর ফুল নষ্ট হয় না। স্থানীয় জাতে যেখানে হেক্টরপ্রতি ধনিয়া উৎপাদন হয় আধা টন। সেখানে বারি-১ উচ্চ ফলনশীল জাতে হেক্টরপ্রতি ধনিয়া উৎপাদন হয় ১ থেকে দেড় টন।

জেলার সদর উপজেলার বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সন্তোষ কুমার দত্ত স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এক একর জমিতে বারি-১ জাতের ধনিয়া চাষ করেছে। যা থেকে তিনি ৭ থেকে ৮ মণ ধনিয়া পাবেন বলে আশা করছেন। গোয়ালবাড়ি গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী ৩৫ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের ধনিয়া চাষ করে আড়াই থেকে ৩ মণ ধনিয়া ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানান।

মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মরিুজ্জামান বলেন, বারি-১ জাতের ধনিয়া কৃষকদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। এ জাতের ধনিয়ার চাষ বাড়াতে পারলে দেশে ধনিয়ার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, জেলায় ধনিয়া চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল বারি-১ জাতের ধনিয়া চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের আরো বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে স্থানীয় ও বারি জাতের ধনিয়া খুব ভালো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি। 

কলেজ ছাত্রী রুবিনা জানান, ধনিয়া এবং ধনিয়ার পাতা এই দুই রকম ফষলই আমরা বিক্রি করি। ফলে লেখাপড়ার খরচসহ পরিবারের খরচ মিটিয়েও প্রতিবছরই অনেকটা আয় হয়। পরে আমাদেরকে দেখে অন্য চাষীরাও উৎসাহিত হয়।

তিনি জানান, এখন বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি এসে ধনিয়া পাতা সংগ্রহ করে ঢাকার কাওরান রাজারে চালান দেয়। সেখান থেকে দেশের বাইরেও চালান দেয়া হয়।

একই গ্রামের ধনিয়া চাষী মিছির উদ্দিন, কুদ্দুছ মিয়া, মাহতাব উদ্দিন, ফাতেমা, পারভীন, নিজ বাড়ির পাশের পতিত জমিতে ধনিয়া আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: