মাগুরাতে কাঁপছে ছিন্নমূল…

মাগুরানিউজ.কমঃ

শেষ বিকালে মাগুরা ঢাকারোড ব্রিজের ওপর থেকে তোলা
শেষ বিকালে মাগুরা ঢাকারোড ব্রিজের ওপর থেকে তোলা

মাগুরা কাঁপছে শীতে। তাপমাত্রা নিচের দিকে নেমেই চলেছে ক্রমাগত। ছিন্নমূল মানুষেরা  সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে। 

পক্ষাঘাতগ্রস্ত হাবিব সরদার। গায়ে উলের বোনা জীর্ণ পাতলা সোয়েটার, পরনে লুঙ্গি। এক হাত লাঠিতে, অন্য হাত পেতেছেন সাহায্যের আশায়। শীতে কাঁপছেন ৫৫ বছর বয়সী এই হাবিব সরদার। পেটের দায়ে চার দিন আগে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা থেকে শহরে এসে ঠাঁই নিয়েছেন অডিটরিয়ামের বারান্দায়।

রবিবার দিবাগত রাত এগারটার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে হাবিবের মত ছিন্নমূল অনেককেই দেখা গেল শীতে কষ্ট করছে। জোটেনি শীতের কাপড়। কেউ বস্তার ভেতর শরীরের অর্ধেকটা ঢুকিয়ে দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে আছেন। এক কাঁথার নিচে দেখা মিলেছে তিন-চারজন শিশুরও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এজন্য আকাশ আংশিক মেঘলাসহ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়‍ার আশঙ্কা রয়েছে।

সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে মাগুরাতে। মধ্যরাতে তা আরো বেড়ে যায়।

এক ছেলের আয়ের টাকায় জুটতো হাবিব সরদারের দু’বেলার খাবার। কিন্তু এলাকায় কাজ কমে যাওয়ায় ছেলের আয়ও কমে যায়। মাঝে মধ্যে উপোস থাকার মধ্যেই মাগুরা চলে আসেন হাবিব।

হাবিব বলেন, মাগুরায় এসেই শীতের মধ্যে পড়েছেন। শীতের মধ্যে চার দিন ধরে শহরের বিভিন্ন বারান্দায় রয়েছেন। বড় কষ্ট হচ্ছে।

মাগুরা বাসষ্টান্ডে কাউন্টারের কাছেই খবরের কাগজ বিছিয়ে তার উপর কাঁথার নিচে শুয়ে আছে তিন শিশু-কিশোর। এদের মধ্যে ইলিয়াস নামে একজন পাঁচ বছর ধরে এখানে থাকে। ইলিয়াস বলেন, শীত পড়লে অনেকে জামা-কাপড়, কম্বল দেয়। এবার কেউ আসেনি। ৬০ টাকা দিয়ে একটি কাঁথা কিনে রাতে ঘুমাইছি।

হকারের কাজ করে রাকিব (১০) ও সাগর (১২)। একটি সোয়েটার মাথায় জড়ানো রাকিব জানায়, শুনছি শীত পড়লে জাম্পার দেয়, তয় এখনো কেউ জাম্পার দেয় নাই।

আর সাগর তার এক বন্ধুর কাছে ৩০ টাকা দিয়ে একটি সোয়েটার কিনেছে, সেটা দিয়েই শীত নিবারণের চেষ্টা তার। সাগর জানায়, কেউ শীতের জামা-কাপড় দিলে কষ্ট কমতো।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্র কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় ছিন্নমূল মানুষগুলোর শীতের কাপড় জরুরি হয়ে পড়েছে।

ক্রমাগত শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। তাদের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। মাগুরার চর ও নদীর কাছাকাছি গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এ এলাকার মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এরইমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও বেসরকারি সংস্থা এবং সরকারিভাবে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

এমতাব্যস্থায় মাগুরাবাসী আপনারা কি ভাবছেন? এখন করনিয় কি? কিভাবে মাগুরার ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে শীত থেকে রক্ষা করা যায়? আপনাদের মতামত জানান। ফেসবুক পেজে কমেন্ট লিখুন। মাগুরানিউজের সাথে থাকুন। মাগুরার সাথে থাকুন। শুরু হতে যাচ্ছে শীতবস্ত্র বিতরন। আপনার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: