মাগুরানিউজ.কমঃ
বাবার বড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় গৃহবধূ হুরুন নাহারকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করলেন তার স্বামী শরিফ মোল্লা। লাঠির আঘাতে গৃহধূর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেতলে গুরুতর জখম করা হয়। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে তার স্বজনেরা তাকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গৃহবধূর শ্বশুরালয় ও বাবার বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে।
গৃহবধূর বাবা আবু তালেব মোল্লা জানান, ছয় বছর আগে তার মেয়ে হুরুন নাহারের সাথে একই গ্রামের শাকের মোল্লার ছেলে শরিফ মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আলোচনাসাপেক্ষে চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক বাবদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গৃহস্থালিসামগ্রী দেয়া হয়। এরপরও নতুন করে দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য জামাই চাপ দিতে থাকে। প্রান্তিক কৃষক তালেবব মোল্লার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব ছিল না। এতে তার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে তার স্বামী।
গতকাল সকালে শরিফ তার স্ত্রী হুরুন নাহারকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে হুরুন নাহারের কাছে আবার টাকা এনে দিতে বললে তিনি টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় শরিফ হাতুড়ি দিয়ে হুরুন নাহারকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।
পরে প্রতিবেশীরা হুরুন নাহারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। তাদের নোমান নামে চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে শরিফ পলাতক রয়েছেন।
গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ প্রতিবেদকের কাছে স্বামীর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর বিচার দাবি করেন।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মকছেদুল মোমিন বলেন, গৃহবধূর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
পলাতক থাকায় গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কারো বক্তব্য জানা যায়নি।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। গৃহবধূ সুস্থ হওয়ার পর মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

