মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ভূমি অফিসে প্রায় এক যুগ ধরে সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) পদটি শূন্য রয়েছে। শীর্ষ ভূমি কর্মকর্তার এই পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতিরিক্ত হিসেবে এই দায়িত্বে পালন করছেন। এতে বিভিন্ন কাজের চাপে যথাযথ ভূমিকা রাখতে না পারায় ভূমিসংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেও কোনো লাভ হয়নি। কত দিনে শূন্য পদ পূরণ হবে, তা-নিয়ে সবাই রয়েছেন অন্ধকারে।
সহকারী কমিশনার ভূমির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসি ল্যান্ড না থাকার কারণে সমস্যার বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতি মাসেই সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়ে আসছেন। তার পরও কোন লাভ হচ্ছে না।
সর্বশেষ এসিল্যান্ড মোঃ মুনির হোসেন খান ২০০১ সালের ৩ আগস্ট এই উপজেলায় যোগদান করেন। মাত্র ৫ মাস পর ২০০২ সালের জানুয়ারির ২৮ তারিখে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে এই পদটি শূন্য রয়েছে। এর পর পর্যায়ক্রমে ৭জন ইউএনও অতিরিক্ত হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সূত্র জানায়, এসিল্যান্ডরা সরকারি, অর্পিত, পরিত্যক্ত ও খাসজমির পাশাপাশি সরকারি হাটবাজার, জলমহাল ও ফলদ বাগান ব্যবস্থাপনা করে থাকেন। ভূমি নিবন্ধন, নামপত্তন, নামজারিসহ জমিজমা সংক্রান্ত নানা কাজে প্রতিদিন জমির মালিকেরা এসিল্যান্ড অফিসে আসেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভূমি সংস্কার ও ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। ভূমি ও রাজস্ব প্রশাসনের বিষয়ে জনগণ এখন স্থানীয় অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করেন। এ ছাড়া সুষম ও স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভূমিসংক্রান্ত রেকর্ড কম্পিউটারাইজড করার স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কাজের সঙ্গে এসি ল্যান্ডরা সরাসরি যুক্ত।
নহাটার পানিঘাটা থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরের ভূমি অফিসে নামজারি করতে এসেছেন আশরাফ আলী। তিনি জানান, কর্মকর্তা না থাকায় তাকে এই অফিসে আরো দুই-তিন বার আসতে হবে। এরকম ভোগান্তির কথা জানান অফিসে বিভিন্ন কাজে আসা জমির মালিকেরা।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন এসিল্যান্ডের শূন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে ইউএনও চাপমুক্ত হবে। এতে মাঠ প্রশাসনে আরো গতিশীলতা আসবে।


