মাগুরানিউজ.কমঃ
ভারতের কলকাতার ‘আজকাল’ পত্রিকায় মাগুরা জেলা প্রশাসনের আতিথেয়তা নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করা হয়েছে। কলকাতা বুধবার ১০ জুন ২০১৫ তারিখের সংস্করনে ‘অতি আধুনিক বাস কিনছে ত্রিপুরা’ শিরোনামে প্রকাশিত এডিটোরিয়ালে মাগুরা জেলা প্রশাসনের আতিথেয়তা নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করা হয়েছে।
‘মাগুরানিউজ’র পাঠকদের জন্য ‘আজকাল’ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুহহু তুলে দেয়া হলো।
অতি আধুনিক বাস কিনছে ত্রিপুরা
আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা রুটের জন্য অতি আধুনিক নতুন বাস কেনার জন্য রাজ্য আরবান ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিকে নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার৷ দ্রুত যাতে এই প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, সে-ব্যাপারে সাহায্য করতে পাঁচ জনের একটি দলও গঠন করে দিয়েছে রাজ্য৷ কী বাস কিনলে ভাল হবে, এই রাস্তার পক্ষে অনুকূল হবে কোন বাস, কত দাম পড়বে, যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য হবে কিনা, সেসব বিষয়ে চারদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছে দপ্তর, জানিয়েছেন রাজ্য পরিবহণ সচিব সমরজিৎ ভৌমিক৷ এদিকে, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস পরিষেবা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সময়সূচি বা ভাড়া কিছুই নির্ধারিত হয়নি৷ তিন পথ– অর্থাৎ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, তবে এ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চুক্তির বিষয়ে সব পথ অবগত হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ পরিবহণ সচিব সমরজিৎ ভৌমিক জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি বিষয়ে দলিল-দস্তাবেজ রাজ্য সরকার ও অন্য দুই পক্ষের হাতে এলেই তিনপক্ষ বসে ঠিক করবে, যাবতীয় সব খুঁটিনাটি৷ এখন ওর ট্রায়াল চলছে৷ ৬ জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঢাকায় বাস চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেও তা ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তরেই রয়ে গেছে৷ পরীক্ষামূলক এই বাসযাত্রায় ত্রিপুরাও সফল৷ ৬ জুন ঢাকা থেকে, ত্রিপুরার টি আর টি সি-র বাস কলকাতা থেকে রওনা হয়ে মঙ্গলবার সকালে একই রুট ধরে যথারীতি বাস আগরতলায় ফিরে আসে৷ ছোট বাস, দীর্ঘ রাস্তা ধরে চলাচলের জন্য এই ধরনের বাস যথাযথ নয়, তবুও আখাউড়া থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতা এবং কলকাতা থেকে ফের ঢাকা হয়ে আগরতলা পর্যন্ত আগে-পিছে পুলিসের এসকর্টের মাঝে গতি সামলে, প্রায় নিরবচ্ছিন্ন ভাবেই ফিরে আসে বাস৷ টি আর টি সি-র মোড়কে রাজ্য পর্যটন নিগমের ১৯ আসনের এই এসি বাস আগরতলা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে কলকাতা, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিন নেতা-নেত্রীর পতাকা নেড়ে যাত্রার সূচনা সব দায়িত্বই সামলেছে এই বাস৷ বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ, যে পথ ধরেই এই বাস ছুটে গেছে, রাস্তার সব মানুষের নজর কেড়েছে৷ যেখানে যাত্রাবিরতি হয়েছে বা থামতে হয়েছে, পথচারীরা কাছে এসে দেখতে চেয়েছেন, অনেকে ছুঁয়ে৷ ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এই বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে৷ বাসের চার ‘ক্রু’র সবাই প্রবীণ৷ তাই এই যাত্রা তাঁদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরাল৷ নতুন বাস এলে যে আরও দুর্দান্ত চালক চাই তা বুঝতে পেরেছেন বাসের আরোহী, টি আর টি সি, ত্রিপুরা আরবান ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি, রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের কর্মকর্তারা৷ ঢাকা, কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিতে তাই প্রয়োজনে অত্যাধুনিক ভলভো বাসও কেনা হতে পারে সে ব্যাপারেও একমত রাজ্য সরকার৷ এসব বিষয় খতিয়ে দেখতেই পাঁচ জনের কমিটি গঠন৷ কমিটিতে টি আর টি সি এবং আরবান ট্রান্সপোর্টের দু’জন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছাড়াও রয়েছেন দু’জন সিনিয়র মোটর ভেহিক্লস ইনস্পেক্টর৷ আরবান ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির টাকায় এই বাস কেনা হবে৷ এসি বাস অবশ্যই হতে হবে৷ এই মুহূর্তে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের হাতে কোনও এসি বাস নেই৷ তাই পর্যটন নিগমের একমাত্র এসি টুরিস্ট বাসকেই বেছে নিতে হয়েছে বাসযাত্রার সূচনার জন্য৷
এই বাসেই ঢাকায় ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চড়েছেন৷ বাসের আরোহীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ এই বাসকে ঘিরে সকলের কৌতূহল বেশ উপভোগ্যও হয়ে ওঠে৷ ফিরে আসার পথে বাংলাদেশের মাগুরার জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়৷ এর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা বাসযাত্রীদেরও সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানানো হয় এখানে৷ এই মাগুরা সার্কিট হাউসে জেলার ডি এম, তরুণ ও মিষ্টভাষী মহম্মদ নাসিম আহমেদ, উপ-জেলা নির্বাহী আধিকারিক মহম্মদ আহসান হাবিব বাসযাত্রীদের জন্য রাতের আহারের আয়োজন করেন৷ রীতিমতো ভোজসভা৷ এমন এলাহি আতিথেয়তার আয়োজন ছিল ঢাকা, আশুগঞ্জ, আখাউড়া-সহ বিভিন্ন জায়গায়৷ মাগুরার নৈশভোজ সভায় ছিলেন বি আর টি সি-র ডি জি এম কাজি নসিরুল হক, বি আর টি সি-র ইঞ্জিনিয়ার হামিদ-উল ইসলাম৷ ছিলেন বাংলাদেশ গণ পূর্ত বিভাগের বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়ার তরুণ বয়সী সুদর্শন আলিন নুরায়েন-সহ অন্যরা৷ মাগুরা জেলাতেই পদ্মানদী পারাপার করতে হয় ফেরিতে৷ সে এক মহা আয়োজন৷
একের পর এক যাত্রীবোঝাই বাস, ট্রাক, লরি, ছোট গাড়ি, অটো ঢুকে পড়েছে বিশাল আকারের লঞ্চে৷ লঞ্চ চলতে শুরু করল৷ পদ্মার বুকে রাতের আঁধার খানখান করে দেয় লঞ্চের মাথায় থাকা বিশাল ও শক্তিশালী সার্চ লাইট৷ লঞ্চেই রয়েছে চা, জলখাবার বা ভাত, ডাল, মাছের ঝোল, মাংসের মতো আহারের ব্যবস্হা৷ ইলিশ মাছ, ভাত, ডাল, তরকারির মিলও যা ডাল, ভাজা, মাংসের মিলও তাই ১২০ টাকা (বাংলাদেশি টাকায়)৷ ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে বিশালকায় পদ্মা পার হতে৷ অনেক ঘাট৷ এর মধ্যে দৌলতিয়া-আরিচা, কাউরাকাদি-পাটুরিয়াঘাটই বেশি ব্যস্ত৷
ফেরি পারাপারে গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে৷ পদ্মার ওপর ২৬ হাজার কোটি টাকায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে৷ ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলে এই দীর্ঘ লাইন অপেক্ষার আর প্রয়োজন হবে না৷ বাংলাদেশের যা জি ডি পি তার ১.৩ শতাংশ অবদান থাকবে এই সেতুর নির্মাণ খরচে৷ বলছিলেন কাজি নসিরুল হক, এস ডি এম হামিদ-উল ইসলাম৷ সেতু চালু হলে আখাউড়া হয়ে ঢাকা-কলকাতা বাসরুটও ৬০ কিলোমিটার কমে যাবে৷ এখন আছে প্রায় ৩৫০ কিমি৷
এই ফেরিঘাট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে শীতকালে কুয়াশা থাকলে৷ সেতু হলে সেই সমস্যাও আর থাকবে না৷ তবে এখন যে অবস্হায় থাকুক, সকলেই চান আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস চলুক৷ ভারতে যাওয়ার যাত্রী অনেক৷ তাই বেনাপোল (বাংলাদেশ), পেট্রাপোল (পশ্চিমবঙ্গ) সীমান্ত চেকপোস্টে দীর্ঘলাইন থাকে প্রতিদিন পারাপারে৷ গড়ে প্রতিদিন এই চেকপোস্ট দিয়ে হাজার চারেক যাত্রী যায়৷ তাই বাংলাদেশের প্রায় সকলেরই এক আর্জি, ভারত তার ভিসা দেওয়ার পদ্ধতি আরও দ্রুত ও সহজ করুক৷ যাতে কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুতে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে আসতে পারেন সহজে৷ ভিসা পাওয়া কিছুটা কঠিন হওয়ায় তাই অনেকে এখন সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, হংকঙে চলে যাচ্ছেন৷ ভারত নিকটতম ভাষা, খাদ্যাভ্যাসে সমস্যা কম৷ তাই ভিসা দেওয়া সহজ করুক ভারত, এই দাবি সকলের৷ কারণ, পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া যে কলকাতা-আগরতলা কোথাও যাওয়া যাবে না৷


