মাগুরানিউজ.কমঃ
দিগন্তজোড়া সোনালি খেত, যেন সোনালি চাদর বিছিয়ে রেখেছে কেউ। মাঝে মাঝে দুলে উঠছে শীষ। হঠাৎ চোখ আটকে গেল একখ- ধানখেতের দিকে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক ধান কাটছেন। আগাম জাতের নতুন এই ধানের নাম বিনা-৭ ও বিনা-৮।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন ধান মাগুরার কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
যেখানে সাধারণ জাতের ধান ঘরে তুলতে সময় লাগে প্রায় ১৫০ দিন, নতুন এই জাতের ধানের ক্ষেত্রে সময় লাগে ১০০-১২০ দিন। ফলনও হয় ভালো- একরে ৫০-৬০ মণ। মাগুরা জেলার প্রধান ফসল পাট। রোপা আমন ধানের ভালো জাতের অভাবে কৃষক এতদিন পাট কেটে বোরো আবাদের জন্য জমি পতিত ফেলে রাখতেন। এখন বিনা-৭ ও ৮ ধান আবাদ করায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। কৃষকরা জানান, আমন কাটার আগ পর্যন্ত কৃষকের ঘরে অভাব থাকে। আগাম জাতের এই ধান আবাদ করে অভাব অনেকটাই দূর হয়েছে।
এখন এই আগাম জাতের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার কৃষক। মাগুরায় এবার বিনা-৭ ও ৮ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় কৃষকরা খেতের ধান আগাম কাটতে পেরেছেন। ইতিমধ্যে পুরো জেলায় এসব জাতের ধান অধের্কের বেশি কাটা হয়েছে।
মাগুড়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষক। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলায় এবার ১৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে বিনা-৭ ও ৮ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর, মহম্মদপুরে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর, শ্রীপুরে ২ হাজার ৮০ হেক্টর, ও শালিখা উপজেলায় ৫ হাজার ২৪০ হেক্টর।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।’

